পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দীন মহারাজের বিরুদ্ধে এক হাজার ৭৯ কোটি ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি প্রকল্পের কাজ না করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। মামলায় পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলীসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। মামলায় পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এলজিইডির ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর ফলে সরকারের প্রকল্পের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থের অপচয় ঘটে এবং জনগণের জন্য যে উন্নয়ন কাজ হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার মোহাসীন, এসএএস সুপার মাসুম হাওলাদার, নজরুল ইসলাম, সাবেক ডিস্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার আলমগীর হাসান, এবং পিরোজপুর এলজিইডি অফিসের হিসাবরক্ষক একেএম মোজাম্মেল হক খান। তাদেরকে গত বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুদক জানায়, এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। মামলায় মেসার্স হরিনপালা ট্রেডার্সের মালিক ও সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দীন মহারাজ, পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আলি আখতার হোসেন, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ খান, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার হাওলাদারসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুদক একে ‘বিশাল দুর্নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং এটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
এটি সরকারের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারী তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদক এখন তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমও দ্রুততার সাথে পরিচালিত হবে।

