চলতি বছরের প্রথম চার মাসে আবারও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে আকাশপথে ইয়াবা পাচার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এরই মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ইয়াবা জব্দ করেছে। এর অর্ধেকই এপ্রিলে ধরা পড়ে, যা আবারো আকাশপথে মাদক পাচারের আশঙ্কাজনক পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে।
ডিএনসি সূত্র জানায়, এপ্রিল মাসেই তিনটি পৃথক অভিযানে ১৫ হাজারের বেশি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল এক অভিযানে ইমরান হোসেন, তার স্ত্রী পারুল আক্তার ও আত্মীয় রাবিয়া আক্তারকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা। তিনজনই কক্সবাজারের উখিয়ার বাসিন্দা এবং মাদকের বাহক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
এছাড়া ১১ এপ্রিল বিমানবন্দরে আটক হন টেকনাফ থেকে আগত যাত্রী শাহামদ আলী। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৪ হাজার ইয়াবা। শাহামদ জানান, মূল হোতা মোজাম্মেল হক তার বিমান টিকিটের খরচ বহন করেন এবং এর আগেও তিনি কয়েকবার এভাবে ইয়াবা সরবরাহ করেছেন।

ডিএনসি আরো জানায়, মাদকচক্র অর্থের বিনিময়ে স্থানীয়দের বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রতি ইয়াবার পেছনে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে পায় বাহকরা। মাসে একটি চক্রের মাধ্যমে একজন বাহকের আয় দাঁড়ায় প্রায় তিন লাখ টাকা, যা অনেককে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে উদ্বুদ্ধ করছে। এ ধরনের চক্র সাধারণত বিমান, বাস অথবা অন্য যাতায়াত মাধ্যম ব্যবহার করে। ধরা পড়লে জামিনের ব্যবস্থাও করে দেয় মূল হোতারা।
ডিএনসির ঢাকা মহানগর উত্তরের অধীনস্থ বিমানবন্দর ইউনিটের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক তুষার কুমার ব্যানার্জী জানান, মহাপরিচালকের নির্দেশনায় তৎপরতা বাড়ানোয় মাদক জব্দ বেড়েছে। তবে জনবল সংকটে কার্যক্রমে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। ২৪ জনের মধ্যে ১৬ জনকেই অন্য ইউনিটে সংযুক্ত করায় মাত্র ৮ জন কর্মী দিয়ে সবকিছু সামলানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য গত বছর অক্টোবরে হঠাৎ করে ইয়াবা পাচার বেড়ে গেলে এক মাসেই ধরা পড়ে ২১ হাজার পিস ইয়াবা। এরপর কিছুটা কমলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আবারও বৃদ্ধি পেতে থাকে মাদকের চালান।
বিশ্লেষকদের মতে, আকাশপথে মাদক পাচার রোধে নজরদারি জোরদার এবং মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে এই প্রবণতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

