বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স পিএলসির শেয়ারদরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং লেনদেনে কারসাজির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। মাত্র ১৬ দিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১ হাজার ২৪৬ টাকা বা ৯৩ শতাংশেরও বেশি যা সন্দেহজনক বলে মনে করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ কারণে বিএসইসি ঢাকার স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চিফ রেগুলেটরি অফিসারকে (সিআরও) বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বিএসইসির সার্ভেল্যান্স বিভাগ ২৩ এপ্রিল চিঠি ইস্যু করে ডিএসইর সিআরওকে এই তদন্তের নির্দেশ দেয়। চিঠিতে বলা হয়, শেয়ারদরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং লেনদেনের পরিমাণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তদন্তের জন্য সিআরওকে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের অনুমোদিত প্রতিনিধিকে (এআর), কমপ্লায়েন্স অফিসার এবং সিইওকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন বিএসইসিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স পিএলসি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। কোম্পানির মালিকানার ৫১ শতাংশ রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৭ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ১ হাজার ৩৩৭ টাকা ৬০ পয়সা। এরপর তা বেড়ে ১৫ এপ্রিল ২ হাজার ৫৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছায়। অর্থাৎ, ১৬ দিনের ব্যবধানে শেয়ারদর বেড়েছে ১ হাজার ২৪৬ টাকা ৯০ পয়সা বা ৯৩ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে পরে শেয়ারদর কিছুটা কমে গত রোববার ২ হাজার ২৯০ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়। আজ সোমবার সকালে (১০টা পর্যন্ত) শেয়ারটি লেনদেন হচ্ছে ২ হাজার ২৮৯ টাকায়।
এছাড়া, ২৭ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ হাজার ৪২টি। এরপর ক্রমাগত বাড়তে থাকে লেনদেনের পরিমাণ। ২৪ মার্চ তা ৫৩ হাজার ৪৩৮টি ছাড়িয়ে যায়। তবে এমন অস্বাভাবিক লেনদেনের কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিএসই কর্তৃপক্ষের কাছে ২৪ মার্চ একটি চিঠি পাঠায়, যাতে কোম্পানির কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) আছে কি না, যা শেয়ারদরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের কাছে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। তবে বিএসইসি এই জবাব সন্তোষজনক মনে করেনি এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
বিএসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, “কোম্পানির শেয়ারদরে কারসাজি চলছে, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে।” ডিএসইর সিআরওকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি কোম্পানির শেয়ারমূল্য ও লেনদেনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে যা সন্দেহজনক এবং সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত প্রতিনিধি (এআর), কমপ্লায়েন্স অফিসার বা সিইওকে অবহিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর সিআরও খায়রুল বাশার আবু তাহের ফোনে রিসিভ করেননি, এবং পরে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিএসইসি এখন বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে শেয়ারদর ও লেনদেনের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ উদঘাটন করার চেষ্টা করছে।

