সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশি বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে ৯৭২টি সম্পত্তি কিনেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই চক্রের খোঁজ পেয়ে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে তথ্য চেয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান দল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন উপপরিচালক রাম প্রসাদ মণ্ডল। ইতিমধ্যেই ৭০ জনের নাম চিহ্নিত করেছে এবং তাদের আয়কর নথি তলব করেছে।
২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ দুবাইয়ে স্থানান্তর করে, যেখানে তারা গোল্ডেন ভিসা সুবিধা নিয়ে সম্পত্তি কিনেছেন। এ পর্যন্ত আনুমানিক ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মূল্যমানের ৯৭২টি প্রপার্টি ক্রয় করেছেন। দুই বছর পর ২০২০ সালের মধ্যে তাদের এই প্রপার্টি ক্রয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। তথ্য মতে, বিদেশি নাগরিকরা দুবাইয়ের আবাসন খাতে মূলধন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শীর্ষে অবস্থান করছেন।
দেশের নির্মাণ খাত ও ঠিকাদারি খাতে নিয়োজিত একটি ব্যবসায়ী, করোনাকালে দুবাই গিয়ে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড প্রসারিত করেন। সেই ব্যবসায়ী বর্তমানে দুবাইয়ের আবাসন ও নির্মাণ খাতে গুরুত্বপূর্ণ নাম।
২০১৯ সালে দুবাই সরকারের গোল্ডেন ভিসা সুবিধা চালু করার পর থেকে, বিদেশিরা ২ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পত্তি কিনে এই ভিসার অধিকারী হচ্ছেন। গোল্ডেন ভিসাধারীরা ১০ বছরের রেসিডেন্সিয়াল সুবিধা, সহজ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকার পান।
এই অর্থ পাচারের ঘটনা নিয়ে হাইকোর্ট ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি একটি নির্দেশনা দেয়। আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছিল, তবে তদন্তের গতি থেমে যায়। তবে প্রায় দুই বছর পর, আবারও এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে এবং দুদক এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে।
বর্তমানে দুদক ৭০ জনের নথি তলব করেছে। তাদের মধ্যে বেশ কিছু পরিচিত ব্যক্তির নাম রয়েছে। যেমন আহসানুল করীম, হেফজুল বারী মোহাম্মদ ইকবাল, মো. সেলিম রেজা, মোহাম্মদ ইলিয়াস বজলুর রহমান এবং আরও অনেকে।
দুদকের মহাপরিচালক আকতার হোসেন জানিয়েছেন, তারা এই তদন্তের মাধ্যমে অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করবে এবং পাচার হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

