ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে ঘুস, বদলি বাণিজ্য এবং বন্দিদের অবৈধ সুবিধা প্রদানসহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের জিআর (সাধারণ নিবন্ধন) শাখার নথি আটকে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং হাজতখানায় বন্দিদের সাক্ষাৎ ও খাবারের সুযোগ দিতে ঘুস গ্রহণের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই অনিয়মের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রসিকিউশন বিভাগে কর্মরত এক সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)। সূত্র: যুগান্তর
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিগত সরকারের পতনের পর ডিএমপির বিভিন্ন শাখায় পরিবর্তন এলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রসিকিউশন বিভাগে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বহাল থাকায় পুরনো দুর্নীতির ধারা এখনো বহমান। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ডিসি প্রসিকিউশনের নাম ব্যবহার করে এ অনিয়ম অব্যাহত রেখেছেন।
লটারির আড়ালে ঘুসের বাণিজ্য-
অনুসন্ধানে উঠে আসে, প্রসিকিউশন বিভাগের প্রতিটি দপ্তর থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করেন এসআই সাইদুর। উত্তোলিত অর্থের বড় একটি অংশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিশেষ করে জিআর শাখায় কর্মকর্তাদের নিয়োগে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। একইভাবে এক বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া কনস্টেবলদের কাছ থেকেও ১ থেকে ১.২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।
সূত্র জানায়, এসআই সাইদুরের সঙ্গে কনস্টেবল জিয়া, বাবুল ও সুরুজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আদালতের পাশে স্টার হোটেলে বসে নিয়োগ, বদলি এবং অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ৫ আগস্টের পর বদলির আদেশ পাওয়া সদস্যদের মধ্য থেকে যাদের সাইদুরের সঙ্গে বনিবনা হয়নি বা যারা অর্থ দিতে গড়িমসি করেছে, তাদের মধ্যে ৩৩ জনকে একদিনের ব্যবধানে টিআইএমএস আউট করা হয় বলে অভিযোগ।
এসআই সাইদুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, “জিআরও নিয়োগ সম্পূর্ণ লটারির মাধ্যমে হয়, কোনো অনিয়ম নেই।”
ডিসি প্রসিকিউশন তারেক জোবায়েরও জানান, “নিয়োগে লটারির নিয়ম মানা হয়, অনিয়মের সুযোগ নেই।”
আদালতে মামলার সেবা নিতে গুনতে হয় টাকা-
ঢাকার আদালতে মামলার নথি দেখা, হাজিরা দেওয়া, জামিননামা তৈরি থেকে শুরু করে শুনানির সিরিয়াল ঠিক রাখাসহ প্রায় সব সেবার পেছনে গোপনে অর্থ আদায় করা হয় বলে জানা গেছে। ফাইলিং শাখা, সেরেস্তা, আদালতের পেশকার, উমেদার, স্টেনোগ্রাফার, আরদালি, পিয়ন ও আইটি সেকশনের অনেক কর্মচারী এসব অনিয়মে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
উমেদার দেলোয়ারের সিন্ডিকেট: নিলাম বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকার মালিকানা-
২০০৪ সালে দৈনিক মজুরিতে উমেদার হিসেবে কাজ শুরু করা দেলোয়ার হোসেন বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক। অভিযোগ রয়েছে, প্রসিকিউশনের ডিসিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে আদালতের নিলাম বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য এবং জিআরও ও কনস্টেবল নিয়োগসহ নানা অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। দেলোয়ারের সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে তার শ্যালক পল্লব ও সহযোগী নূর হোসেন, রনি ও জামিল।
২০২২ সালের নভেম্বরে প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার দুই আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনার পর দেলোয়ারকে বহিষ্কার করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তার দাপট কমেনি। বর্তমানে তিনি আবারো সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া-
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তারেবুর রহমান জানান, “আমি এ বিষয়ে অবগত নই, খোঁজ নিয়ে জানাবো।” তবে পরে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম বলেন, “আমরা প্রায়ই এসব অভিযোগ শুনি। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।”

