বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িতব্য ‘বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভারি ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্ট’ বা ‘বি-স্ট্রং’ প্রকল্পে দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় দেখানো হয়েছে। অনুসন্ধানকালে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ঘেঁটে নানা অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখনো প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়নি। তবে ডিপিটি প্রস্তুতের সময়েই কিছু সরঞ্জামের অস্বাভাবিক দাম নির্ধারণের অভিযোগ ওঠে যা কমিশনের অনুসন্ধানের মূল ভিত্তি।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রকল্পে প্রতিটি স্ট্রিট সোলার লাইটের মূল্য ধরা হয়েছে ৭২ হাজার টাকা, অথচ পরিকল্পনা কমিশনের মতে, এসব লাইটের প্রকল্প এলাকায় প্রয়োজন নেই। এছাড়া প্রকল্পে ৬০টি মোটরসাইকেলের প্রস্তাব করা হলেও পরিকল্পনা কমিশন মাত্র ৩৬টি কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এমনকি চারটি ল্যাপটপের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১১ লাখ টাকা যা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ও বাজারমূল্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের খরচও নজিরবিহীনভাবে বেশি দেখানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ভারতের বাঁধ উপচে এবং অতিবৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নেওয়া হয় ‘বি-স্ট্রং’ প্রকল্প, যার আওতায় ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া—এই ছয় জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন ও জরুরি প্রস্তুতি কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৬০ কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার এবং ১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পটির একনেক অনুমোদন হয় ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল।
এ বিষয়ে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ আবদুল মান্নান বলেন, প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি, এটি কেবল একনেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বর্তমানে ঢাকার বাইরে আছেন। তবে তিনি আশ্বাস দেন, এলজিইডির কোনো প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি জানান, যেখানে অনিয়ম প্রমাণিত হয় সেখানে সংশ্লিষ্টদের বরখাস্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটি পরিকল্পনা ও অর্থায়নের দিক দিয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলেও শুরুতেই এ ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ প্রকল্পটির স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দুদক জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

