রাজধানীর অভিজাত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে চলছিল অদ্ভুত এক খেলা। যেখানে একজন পুরুষকে গোপনাঙ্গ ছাড়া পুরোপুরি উলঙ্গ করে হাত, পা ও মুখ বেঁধে রাখা হতো। পায়ে থাকত পার্টি ড্রেসের জুতা, মুখে মাস্ক। আর সামনে দাঁড়িয়ে এক নারী তাকে চাবুক দিয়ে মারতেন। পুরুষটি কাঁদতেন, তবুও নারীর কাছে অনুরোধ করতেন, ‘আরও জোরে মারুন’!
শরীর থেকে রক্ত ঝরলেও থামত না নির্যাতন। উল্টো নারীর পায়ের কাছে মুখ লাগিয়ে তা চাটতেন সেই যুবক। এসব দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে রাখা হতো। ভিডিওর নাম দেওয়া হতো ‘টু মিস্ট্রেস পানিশড ওয়ান স্লেভ’।
এমন দৃশ্য দেখে মনে হতে পারে নিষ্ঠুর নির্যাতন চলছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এটি এক ধরনের বিকৃত যৌন আচরণ—যার নাম বিডিএসএম বা ফেমডম সেশন। এতে পুরুষরাই টাকা দিয়ে নারীদের কাছে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মার খায়, অপমানিত হয়, আর সেখান থেকেই খুঁজে নেয় যৌন আনন্দ।
‘মিস্ট্রেস’ সেজে যিনি মারতেন, তাকে ঘিরেই আবর্তিত হতো পুরো আয়োজন।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, দুই তরুণী—ফারহানা মিলি ও সুইটি আক্তার জারা—এই কাজ করতেন। তারা ফেসবুকে চালাতেন ‘ফ্রিডম লাইফস্টাইল’ এবং ‘মিস্ট্রেস মিলি এন্ড জারা ফ্রিডম লাইফস্টাইল’ নামে দুটি পেজ। সেখান থেকেই খুঁজে নিতেন ‘স্লেভ’ খ্যাত ক্লায়েন্ট।
এই ফ্ল্যাটে যারা যেতেন, তারা নিজের ইচ্ছায় যেতেন মার খেতে। কেউ চাবুক খেতেন, কেউ থুথু খেতেন, আবার কেউ পা চেটে আনন্দ পেতেন। অনেকেই ভিডিও দেখার পর আগ্রহী হতেন সেশন নিতে। সেগুলোর দামও ছিল চড়া।
ভিডিওর বিজ্ঞাপনেই থাকত—‘২০ মিনিটের দাস-মনিবের সেশন’।
বিডিএসএম কালচার পশ্চিমা বিশ্বে আগে থেকেই প্রচলিত। বাংলাদেশে এটি এখনো সীমিত পরিসরে, তবে গোপনে বাড়ছে এর চর্চা। এই চক্রের মুখোশ খুলে দেয় এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ। পরে ভাটারা থানার পুলিশ অভিযানে গিয়ে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে উঠে আসে, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। স্লেভদের কাছ থেকে টাকা নিত, ভিডিও করত, আবার সেই ভিডিও বিক্রিও করত। ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়ে অনেকে আবার নতুন করে সেশন চাইত। প্রতিদিন সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেতেন। ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও।
এসআই ইকবাল হোসেন বলেন, যারা মার খেতেন, তারা নিজেরাই বিকৃত মানসিকতার। টাকার বিনিময়ে এমন কষ্ট ভোগ করতেও রাজি থাকতেন। অনেক সময় রক্তাক্ত অবস্থাতেও তারা বলতেন, ‘আরও মারুন।’
পুলিশ জানায়, মিলি এই কাজ শুরু করেন প্রায় দুই বছর আগে। প্রথমে অন্য এক নারীর সঙ্গে কাজ করতেন। পরে জারাকে সঙ্গে নিয়ে নতুনভাবে শুরু করেন। ৩২ হাজার টাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। ভেতরে কি হচ্ছে, তা আশপাশের কেউ টেরও পেত না।
গ্রেপ্তার হওয়া জারা জানায়, শুরুতে এসব শুনে ভয় পেয়েছিলেন। তবে মিলি তাকে বলেন, এখানে শারীরিক সম্পর্ক করতে হয় না, শুধু চাবুক মারা, থুথু খাওয়ানো আর পা চাটানো। তাতেই আয় হয় মোটা অঙ্কের টাকা। আর ভিডিও বিক্রি থেকেও আসে আয়।
এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এমন চক্র আরও রয়েছে, যারা এখনো গোপনে এ ধরনের বিকৃত যৌন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

