সরকারি এলপি গ্যাস (তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বিক্রিতে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার ৬ মে এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম।
জানা গেছে, মাত্র ৬৯০ টাকায় নির্ধারিত সরকারি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বাজার থেকে কীভাবে উধাও হয়ে যাচ্ছে কিংবা অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এমন প্রশ্ন থেকেই দুর্নীতি দমন কমিশন এই পদক্ষেপ নেয়। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, এ প্রক্রিয়ায় একটি চক্র বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মাঠে নামে দুদকের তিন সদস্যের একটি দল। সহকারী পরিচালক মো. রাজু আহমেদ, তানজির আহমেদ এবং আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে দলটি বিপিসির দপ্তরে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দুদক সূত্র বলছে, সরকারি গ্যাসের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কারসাজি করে আসছে যার ফলে সাধারণ মানুষ নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পাচ্ছেন না। সেই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির সুযোগও নিচ্ছে এই চক্র।
এলপি গ্যাস একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এমন পণ্যের অনিয়ম, দুর্নীতি ও চুরি সরাসরি ভোক্তার ওপর প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতায় দুর্নীতির উৎস শনাক্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান জোরদার করেছে দুদক।
অভিযানের বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন।

