রংপুর নগরীতে করোনা মহামারির সময় চালু হওয়া ডেডিকেটেড আইসোলেশন হাসপাতালটি এখন অচল। শিশুহাসপাতালের ভবনে স্থাপিত এই হাসপাতালে ছিল ১০০টি শয্যা। এর মধ্যে ২৫টি ছিল আইসিইউ বেড।
কোভিডের দাপট কমতেই ২০২২ সালে বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালটি। তখন থেকেই অচল পড়ে আছে সব চিকিৎসা সরঞ্জাম। আইসিইউ বেড, কার্ডিয়াক মনিটর, সাধারণ বেডসহ অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি এখন অব্যবহৃত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
অন্যদিকে রংপুর বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখনো আইসিইউ সংকট। অথচ এক ভবনে ২৫টি আইসিইউ বেড পড়ে আছে, ব্যবহার হচ্ছে না। রোগী ও স্বজনরা এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
একজন নার্স জানান, “আমি রোগীর সেবা দেই, তবে আইসিইউ চালু করা টেকনিক্যাল কাজ। এখানে ইঞ্জিনিয়ারসহ বিশেষজ্ঞ লোক দরকার।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় অফিস বলছে, কোভিড সময়ে বিভাগে ৩ লাখ ৬১ হাজার ২৪৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে আক্রান্ত হন প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ। মৃত্যু হয় ১ হাজার ২৯৩ জনের। দিনাজপুরে মারা যান সবচেয়ে বেশি—৩৪১ জন। সবচেয়ে কম মৃত্যু গাইবান্ধায়—৬৬ জন।
বর্তমানে নতুন করে আর কোভিড রোগী ধরা পড়ছে না। সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে আছে রংপুর মেডিকেল কলেজের পিসিআর মেশিন। ব্যবহার না হওয়ায় সেটিও নষ্ট হওয়ার পথে।
রমেকের শিক্ষক ডা. আব্দুস সবুর খান বলেন, “মেশিন ভালো আছে। মাঝে মাঝে চালিয়ে দেখা হয়। তবে রিএজেন্ট নেই। করোনাকালে এখানে ১ লাখের বেশি টেস্ট হয়েছিল।”
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও রমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেডিকেটেড হাসপাতালের সরঞ্জাম ব্যবহারে দ্বিধা রয়েছে দুই দপ্তরের। কে দায়িত্ব নেবে, তা নিয়েই মতবিরোধ। ফলে দীর্ঘদিনেও হয়নি কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মামুনুর রহমান বলেন, “রমেক রংপুরের প্রধান হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী আসে। কিন্তু আইসিইউ সংকটে অনেক রোগী ভর্তি করা যায় না। অথচ পাশেই ব্যবহৃত না হওয়া আইসিইউ বেড পড়ে আছে। যদি রমেকে এসব বেড দেওয়া হতো, তাহলে বহু রোগী উপকৃত হতেন।”
রমেকের নিজস্ব আইসিইউ ইউনিটেও সমস্যা রয়েছে। পুরনো যন্ত্রপাতি, সংস্কারের অভাব, সব মিলিয়ে পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য নয়। ১০টি বেডের মধ্যে দুই-একটি প্রায়ই অকেজো থাকে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বণিক বলেন, “চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারে আইনগত জটিলতা রয়েছে। ডেডিকেটেড হাসপাতালের দায় দায়িত্ব সিভিল সার্জনের অফিসের। তারা বুঝিয়ে না দিলে আমরা কিছু করতে পারি না। নিয়ম ভেঙে কিছু করলেও পরে অডিট আপত্তি আসতে পারে।”
তিনি জানান, সরঞ্জাম যেন নষ্ট না হয়। সেজন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন রমেকের উপপরিচালক। সদস্য হিসেবে আছেন সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি।
তবে সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, “ভবনটি সিভিল সার্জনের জমিতে হলেও খরচ দিয়েছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। তাই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া সরঞ্জাম হস্তান্তর করা যাবে না।”
তিনি আরও জানান, “আমি মার্চে যোগ দিয়েছি। সাত সদস্যের কমিটির বিষয়ে কিছু জানি না।”
তবে তিনি বলেন, “যদি শিশুহাসপাতালটি চালু করা যায়, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। এজন্য মন্ত্রণালয়ে লোকবল চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।”
এইভাবে একদিকে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম পড়ে আছে অচল অবস্থায়। অন্যদিকে আইসিইউ সংকটে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা।

