পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দহপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে বড় ধরনের ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ২০২২ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তত চারটি পদে নিয়োগের জন্য প্রায় ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুস নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বিদ্যালয়ের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাকির হোসেন ছবি। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘুস লেনদেনে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সংসদ সদস্যের ছেলে গোলাম হাসনাইন রাসেল।
জানা যায়, ২০২২ সালে দহপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। একই বছরের ১০ অক্টোবর নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার প্রায় এক বছর পর ২০২৩ সালে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক পরীক্ষার্থী। তারা বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফল করা সত্ত্বেও পূর্ব নির্ধারিত প্রার্থীদের বাদ দিয়ে কৌশলে অন্যদের উত্তীর্ণ দেখানো হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের শিকার এক পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমার পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো হয়েছে আমাকে। খাতা দেখার অনুরোধ করায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, বেশি বাড়াবাড়ি করলে রাসেল দিয়ে তুলে নেওয়া হবে। ভয়ে আমি চুপ করে থাকি।”
এই অনিয়মের পেছনে বড় অঙ্কের ঘুস লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন সূত্রে। প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়া ফজলুর রহমান অভিযোগ দিয়েছেন ২০ লাখ টাকা। পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তানিয়া খাতুন, অফিস সহায়ক হাফিজুর রহমান এবং দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী আব্দুল আলীম প্রত্যেকে ঘুস দিয়েছেন ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে ঘুসের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
ঘুস দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, “আমার তো এমন কোনো অর্থ-সম্পদ নেই। তাহলে আমি কীভাবে ২০ লাখ টাকা ঘুস দিতে পারি? এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
অন্যদিকে, এই বিষয়ে মূল অভিযুক্ত জাকির হোসেন ছবির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি পাওয়া যাননি। এমনকি তার আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকেও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

