নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের আওতায় পরিচালিত ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির বরাদ্দকৃত সরকারি ২০০ বস্তা চাল জব্দ করেছে বেলাব উপজেলা প্রশাসন। গরিব ও অসহায় নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত এই চাল কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টাকালে শনিবার (২৪ মে) বাজনাব ও পাটুলী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে চালগুলো উদ্ধার করা হয়।
বাজনাব ইউনিয়নের ঘটনায় জানা গেছে, সেদিন স্থানীয় ভিডাব্লিউবি কার্ডধারী নারীদের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি জনকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রশাসনের কাছে খবর আসে—চাল বিতরণের পর উপকারভোগীরা চাল বিক্রি করে দিচ্ছেন। এই খবরে তৎপর হয় উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হালদারের নেতৃত্বে একটি দল বাজনাব ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন আমেরিকা প্রবাসী কাইয়ূম মিয়ার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে গোপনে মজুদ করা অবস্থায় পাওয়া যায় ১১৮ বস্তা সরকারি চাল। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে, মোট চালের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫.৯ টন।
এর পাশাপাশি পাটুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানেও অভিযান চালানো হয়, সেখান থেকে আরও ৮২ বস্তা (৪.১ টন) চাল জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে ১০ টনের সমপরিমাণ ২০০ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়, যা সরকারি হিসাবে একেকজন উপকারভোগীর এক মাসের খাদ্য সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ ছিল।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, এসব সরকারি চাল কীভাবে গেল একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে? কে বা কারা এর পেছনে জড়িত? এই প্রশ্নের এখনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি প্রশাসন। এ বিষয়ে বেলাব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হালদার জানান, “আমরা ২০০ বস্তা চাল জব্দ করেছি। এখনো কেউ সুনির্দিষ্টভাবে দোষ স্বীকার করেনি এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।”
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, গরিব নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল এভাবে কালোবাজারে চলে যাওয়া খুবই দুঃখজনক ও লজ্জার বিষয়। তারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অপরদিকে, এ ঘটনায় যদি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা কিংবা চাল ডিলারদের কেউ জড়িত থাকে, তবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তে কারা জড়িত, তা বের হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির চালের এই ধরনের অপব্যবহার শুধু সরকারকে নয়, অসহায় নারীদের জীবনেও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই ধরনের দুর্নীতি রোধে আরও কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন সমাজ বিশ্লেষকরা।

