শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে এক ধরনের ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে।
গত ১৮ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এই ঘোষণা জানায় বিএসইসি। এর আগে ১১ মে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা শেয়ারবাজার সংস্কারে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। বিএসইসি ওই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের সময়সীমা ও পরিকল্পনা চিঠিতে তুলে ধরে।
প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়া, তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ব্যবধানে পার্থক্য বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আগামী তিন মাসের মধ্যে শেয়ারবাজার সংস্কারে কার্যক্রম শুরু করা, বাজারে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকঋণের পরিবর্তে শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে উৎসাহিত করা।
এই নির্দেশনাগুলোকে সামনে রেখে বিএসইসি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। গত শনিবার ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বিএসইসির কমিশনার মোহসিন চৌধুরী জানান, প্রধান উপদেষ্টার পাঁচ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কমিশন ইতিমধ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে রয়েছি এবং প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।”
এই উদ্যোগের ফলে শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের যেসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিদ্যমান ছিল, সেগুলোর অবসান ঘটানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের মনোযোগ এবং দ্রুত সংস্কার পদক্ষেপের এই প্রতিফলন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

