নামমাত্র মূল্যের জমি মর্টগেজ রেখে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে এক ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরায় অবৈধভাবে অর্জিত দুটি ফ্ল্যাটের অস্তিত্ব উদ্ঘাটন করেছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।
গতকাল সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এসব তথ্য উঠে আসে। তবে এখনো অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তার নাম বা পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানান, অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নামমাত্র মূল্যের জমি মর্টগেজ দেখিয়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ঋণ গ্রহণ, বিদেশে অর্থপাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
তিনি আরও জানান, দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার বোনের নামে বসুন্ধরায় দুটি ফ্ল্যাটের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এসব সম্পদ অবৈধ উপায়ে অর্জিত।
অভিযানকালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের গুলশান কর্পোরেট শাখায় ‘এমআর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে দেওয়া এক খারাপ ঋণের তথ্যও উঠে আসে, যার পরিমাণ বর্তমানে ১০ কোটি টাকারও বেশি। প্রতিষ্ঠানটি ওই ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে এনফোর্সমেন্ট টিম।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও ব্যাংক নথিপত্র পর্যালোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এরপর কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুদক এই অভিযানের মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দেশের ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি এ ধরনের দুর্নীতি প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেও অঙ্গীকারাবদ্ধ তারা।

