উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে অবৈধভাবে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী মঙ্গলবার (২৭ মে) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ কো-অপারেশনের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির ২২তম অধিবেশনে এই আহ্বান জানান।
অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ ফিরিয়ে আনা জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মিলিত রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে বুধবার ঢাকায় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক তথ্য বিবরণীতেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় থাকা দেশগুলোর জন্য বিদ্যমান বিশেষ ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধাগুলোর সময়সীমা যেন হঠাৎ করে প্রত্যাহার করা না হয়। বরং এসব সুবিধা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার মাধ্যমে উত্তরণকে আরও টেকসই ও অপরিবর্তনীয় করে গড়ে তোলা উচিত।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ এবং মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রদূত ‘সোশ্যাল বিজনেস’ বা সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতে সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলে তা গুণগত ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশেষভাবে তরুণদের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুবসমাজ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদেরকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রাখতে হবে। এজন্য শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের জন্য বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত চৌধুরী উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং একটি ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশের ‘তিন শূন্য’ (zero poverty, zero unemployment, zero net carbon emissions) দর্শনের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে দেওয়া এ বক্তব্য শুধু উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাই নয় বরং বৈশ্বিক সহযোগিতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনের প্রতি প্রতিশ্রুতিরও প্রতিফলন।

