মানিকগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরে কর্মরত থাকা অবস্থায় ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত পরিবেশ পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি রাঙামাটি পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সাময়িক বহিষ্কৃত হলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন তিনি।
গত ২০ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে আব্দুর রাজ্জাকের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৩৯ ধারা এবং সরকারি কর্মচারি (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ১২ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি, যখন একটি জাতীয় দৈনিকে “ঘুষ নিয়ে ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে একটি অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয় যেখানে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি এক ইটভাটা মালিক তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দাখিল করেন।
প্রশাসনিক তদন্তে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয় এবং তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।
আব্দুর রাজ্জাক ১৯৯৫ সালের ২০ জুন পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে নমুনা সংগ্রাহক হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় (বগুড়া)–তে টানা সাড়ে আট বছর কাজ করেন। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০০৬ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঁচ বছর, গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে চার বছর, চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে দুই মাস এবং মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে এক বছর আট মাস দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে রাঙামাটিতে বদলি করা হয়। সেখানেই দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত মাসে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি আইনানুগভাবে লড়াই করব।”
রাঙামাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুমিনুল ইসলাম জানান, “পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের কার্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। পূর্বে কোথায় কী ঘটেছে সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে তিনি বর্তমানে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত থাকায় অফিসের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন।”
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর এবং অভিযোগ উঠলেই দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

