ঠাকুরগাঁওয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগে ওএসডি করা হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ফরহাদ আকন্দকে। মঙ্গলবার তাকে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
এই সিদ্ধান্ত আসে এক অভিযানের পর। মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ তালুকদার।
অভিযানে অধিদপ্তরের ভেতর থেকেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ মাদক, দেশীয় অস্ত্র এবং নগদ অর্থ।
জব্দকৃত মাদকের মধ্যে ছিল ৪০.৫ লিটার চোলাই মদ ও ৩ লিটার বিদেশি মদ। ছিল ৮ বোতল ফেনসিডিল, ১২ পাতা টাপেন্ডাভল ট্যাবলেট, ১৮ পুরিয়া হেরোইন এবং ৮৫ প্যাকেট ইয়াবা। এসব ইয়াবার মধ্যে ৩৫০টির বেশি বড়ি পাওয়া যায়। সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০টি আলাদা বড়িও ছিল।
এছাড়াও জব্দ করা হয় ৮টি প্যাথেডিন ইনজেকশন, ৯৩টি ব্রুপেন ইনজেকশন, ২৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৬৪টি পুরিয়া। পাওয়া যায় ২৫০ গ্রাম আলোয়া পাতা, ৫০০ মিলি কালো তরল পদার্থ এবং ৫টি সিরিঞ্জ।
অস্ত্রের তালিকায় ছিল ১৪টি দেশীয় অস্ত্র। এছাড়াও উদ্ধার হয় ২৬টি বিদেশি মদের খালি বোতল এবং ১৫৫টি ফেনসিডিলের খালি বোতল।
মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে ১০টি। জব্দ করা নগদের মধ্যে ছিল একটি ১০০০ টাকার নোট এবং দুটি ৫০০ টাকার নোট।
ঘটনাস্থলে পরিদর্শক ফরহাদ আকন্দকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি দাবি করেন, কিছু মাদক পুরোনো মামলার আলামত। তবে সেগুলোর কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকেই বিপুল মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তাই পরিদর্শক ফরহাদ আকন্দকে ওএসডি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনসহ সচেতন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ভেতরে এত মাদক ও অস্ত্র পাওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেই হোক, দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

