ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় সরকারি সহায়তা কর্মসূচি ভিজিডি ও ভিজিএফের জন্য বরাদ্দকৃত ৬৪ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোররাতে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের কান্দানিয়া কচুয়ার মোড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়ি থেকে এসব চাল জব্দ করা হয়। চালগুলো সরকারি সিলযুক্ত বস্তায় সংরক্ষিত ছিল এবং সব মিলিয়ে পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৬০ কেজি। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকৃত চালের মালিকানা সম্পর্কে জানা গেছে, বসতবাড়ির মালিক আইনাল হক ওই এলাকারই বাসিন্দা। পুলিশের অভিযানের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে ৫০ কেজি ওজনের সরকারি সিলযুক্ত ২০ বস্তা চাল এবং ৪০ কেজি করে ৪৪টি বস্তায় রাখা মোট ২ হাজার ৭৬০ কেজি চাল জব্দ করা হয়। এসব চাল ভিজিডি ও ভিজিএফ প্রকল্পের আওতায় সরকারের ত্রাণ হিসেবে বিতরণের জন্য নির্ধারিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, “চালগুলো হয়তো কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করে বেআইনিভাবে মজুত করা হয়েছিল। অভিযুক্ত আইনাল হক পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে চালগুলো কীভাবে সেখানে এল এবং এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখতে তদন্তও শুরু হয়েছে।”
সরকারের বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্পের চাল চুরি ও কালোবাজারে বিক্রির ঘটনা দেশে আগেও দেখা গেছে। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহির অভাব অনেক সময় সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে আইনাল হকের এই চাল মজুতের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ত্রাণ বণ্টনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সরকারের ত্রাণ সহায়তা যাদের জন্য বরাদ্দ সেই সুবিধাভোগীদের পরিবর্তে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি বা চক্রের হাতে এসব ত্রাণ চলে যাওয়ায় প্রকৃত সুবিধাভোগীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উদ্ধারকৃত চাল যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি ভাণ্ডারে হস্তান্তর করা হবে।

