সুনামগঞ্জ অনুপস্থিতিই যেন নিয়ম” — এতে বোঝানো হচ্ছে যে সুনামগঞ্জে সদর হাসপাতালে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিত থাকা একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“সেবাবঞ্চিত রোগীরা” সাধারণ রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে অনুমোদিত চিকিৎসক পদ রয়েছে প্রায় ২৫০টি, এর মধ্যে শতাধিক পদ এখনো শূন্য। আবার অনেক চিকিৎসক শহরে থেকে প্রান্তিক এলাকায় নিয়মিত আসেন না।
গত সপ্তাহের রোববার ও সোমবার হাসপাতালের সব চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতির প্রমাণপত্র এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, ১৮৬ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে গত রোববার উপস্থিত ছিলেন ১২৩ জন, অনুপস্থিত ৬২ জন। ছুটিতে ছিলেন একজন। গড় উপস্থিতির হার ৬৬ ভাগ। পরদিন সোমবার উপস্থিত ছিলেন ৮৩ জন, অনুপস্থিত ১০২ জন। এদিনও একজন ছুটিতে ছিলেন। গড় উপস্থিতি ছিল ৪৫ ভাগ।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস করেন। কিন্তু বায়োমেট্রিক মেশিনে সমস্যার কারণে অনুপস্থিতির সংখ্যা বেশি।
দুদিনের উপস্থিতির প্রমাণপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, অনেকে অনুপস্থিত ১৮৬ চিকিৎসক, কর্মীর মধ্যে গত রোববার উপস্থিত ছিলেন ১২৩ জন!
গত সোমবার উপস্থিত ছিলেন ৮৩ জন, ১০২ জন অনুপস্থিত।আউটডোরে অপেক্ষায় থাকেন রোগীরা, দেখা মেলে না চিকিৎসকের!হাসপাতালে নার্স রয়েছেন ১২৭ জন। এর মধ্যে সোমবার উপস্থিত ছিলেন ৫২ জন। ৭৫ জনই অনুপস্থিত।
গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার আউটডোরে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন পৌর শহরের ওয়েজখালীর বাসিন্দা মো. মুজিবুর মিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রুমের সামনে রোগীরা বসে আছেন সকাল ১০টা থেকে। এখন বাজে দুপুর সাড়ে ১২টা। কোনো চিকিৎসক আসেননি।’
এ ব্যাপারে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ বলেন, হাসপাতালে ৫২ ভাগ চিকিৎসকের পদ শূন্য। এ ছাড়াও পুরো হাসপাতালের প্রায় ৫৭ ভাগ জনবলের পদ খালি। সকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগী দেখেন। এ জন্য আউটডোরে যেতে বিলম্ব হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “কিছুদিন বায়োমেট্রিক মেশিন নষ্ট ছিল। বিদ্যুৎ না থাকলে ফিঙ্গার দেওয়া যায় না। অনেকেই হাসপাতালে আসেন, তবে বায়োমেট্রিক মেশিনে ফিঙ্গার দেন না। আগামীতে আসা-যাওয়ার সময় বায়োমেট্রিক মেশিনে ফিঙ্গার দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।”

