গাজীপুর মহানগরীর মোগরখাল এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় এক নারীর গলাকাটা ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশ এ মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত নারীর নাম রত্না আক্তার (২২)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার বেলতলা এলাকার মোতালেব মিয়ার মেয়ে। গাজীপুরে অবস্থানকালে তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং স্বামী শামিম হোসেনের সঙ্গে বাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রত্না ও তার স্বামী শামিম বেশ কিছুদিন ধরে মোগরখাল এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। উভয়েই একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তবে দাম্পত্য জীবনে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। ঘটনার প্রায় চার থেকে পাঁচ দিন আগে থেকেই তাদের ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছিল। এতে প্রতিবেশীরা ধারণা করেন, দম্পতি হয়তো কোথাও বেড়াতে গেছেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে এক প্রতিবেশী ঘরের ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে বাসন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকে। তখনই তারা দেখতে পান, ঘরের ভেতরে একটি লেপ, কম্বল ও কাঁথার স্তূপে মোড়ানো অবস্থায় রত্না আক্তারের গলাকাটা মরদেহ পড়ে আছে। লাশটি আংশিক পচে-গলে গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পর থেকেই তাঁর স্বামী শামিম পলাতক।
বাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক স্বামী শামিম হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা রত্নার হত্যাকারীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা যাবে।

