মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা কক্সবাজারের উখিয়ায় মাদক পাচারের সময় বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় পালংখালি সীমান্ত এলাকার আঞ্জুমান খালপাড় থেকে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, যিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বালুখালী ও পালংখালী বিওপির নিয়মিত টহল দল সন্ধ্যার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল দিচ্ছিল। বালুখালী বিওপি থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, পালংখালী বিওপি থেকে ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং বিআরএম-১৯ থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আঞ্জুমান খালপাড় এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।
রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিজিবি সদস্যরা দেখতে পান, ২-৩ জন ব্যক্তি মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তাৎক্ষণিকভাবে দুই বিওপির টহল দল পাচারকারীদের ধাওয়া করে। এ সময় তাদের একজন স্থানীয় অস্ত্র হাতে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। অন্য দুজন মাদকভর্তি ব্যাগ নিয়ে ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে দুই দিকে ছড়িয়ে পড়লে বালুখালী ও পালংখালীর বিজিবি টিম পৃথকভাবে তাদের ধাওয়া করে। তবে শেষ পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে দুটি যৌথ টহল দল তল্লাশি চালিয়ে ধানক্ষেত থেকে নীল রঙের দুটি ব্যাগ উদ্ধার করে। ব্যাগ দুটিতে থাকা ১৪টি প্যাকেট খুলে দেখা যায়, সেখানে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা লুকানো ছিল।
বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জসীম উদ্দিন জানান, মাদক চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা ইয়াবা আলামত হিসেবে থানায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এই তৎপরতা প্রশংসার দাবি রাখে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

