রাজশাহী বিভাগজুড়ে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তেমনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অভিভাবকদের মাঝেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে এমন অপরাধ, যার ফলে জনগণের মনে প্রশ্ন উঠছে—নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ কাজ করছে কি না।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিভাগজুড়ে প্রতি মাসেই শতাধিক এমন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। গত চার মাসে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির অন্তত ৩৯০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চুরির ঘটনাই ছিল সবচেয়ে বেশি। বগুড়ায় ঘটেছে সবচেয়ে বেশি অপরাধ। অথচ প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে অপরাধীকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে অনেক মামলারই অগ্রগতি নেই।
ঈদের ছুটিতে রাজশাহীতে নিজ বাড়িতে ফেরার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হন ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান শাখার কর্মকর্তা রাশিদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ফাহমিদা সুলতানা। দিবাগত রাতের সেই ঘটনার পর এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। একইভাবে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের বাড়িতেও চুরি হয়। সেখানেও কোনো অভিযুক্ত শনাক্ত হয়নি। এমনকি ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য নিজেই মামলা করতে অনিচ্ছুক ছিলেন বলে জানিয়েছেন ওসি।
এসব ঘটনায় স্থানীয় নাগরিক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেছেন, পুলিশের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগে অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। অনেক সময় সেনাবাহিনীর সহায়তা ছাড়া অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অপরদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান মনে করেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা জনমনে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।
অপরদিকে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান দাবি করেছেন, পুলিশ আবারও সক্রিয়ভাবে মাঠে নামছে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে প্রচলিত আইনের আওতায় প্রতিটি অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে।
তবে বাস্তবতা হলো, মানুষ প্রতিনিয়ত অপরাধের শিকার হচ্ছে এবং প্রতিকার পাচ্ছে না। প্রতিটি অপরাধ যেন আরেকটি নতুন আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থার জায়গা যেন দিনে দিনে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এখন সময় এসেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর, দৃশ্যমান এবং টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার। অন্যথায়, এই অপরাধচক্র রাজশাহী বিভাগে স্থায়ী আতঙ্কে পরিণত হবে।

