নওগাঁ থেকে নাটোরগামী আঞ্চলিক সড়ক নওগাঁ-রাণীনগর-আত্রাই সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯ কিলোমিটার। কাঁঠালতলী মোড় থেকে আত্রাই পর্যন্ত এই সড়কেই রয়েছে প্রায় ৩০টি বিপজ্জনক বাঁক। এসব বাঁক ঘিরে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন লাখো মানুষ। সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, গত এক বছরে এখানে ঘটেছে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনা। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮ জন। প্রতিদিনই কোনো না কোনো গাড়ি উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তার প্রশস্তকরণে নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। প্রায় ৪৫ বছর ধরে তারা দুর্ভোগে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ সদর, রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার প্রায় ২০০ গ্রামের লাখো মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। আশির দশকে এটি ইটের রাস্তা ছিল। তখন গরুর গাড়ি ও মানুষের হেঁটে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হতো। পরে এটি পাকা করা হয় এলজিইডির উদ্যোগে, তবে প্রশস্ত করা হয়নি। এক দশক আগে সড়কের ১২ কিলোমিটার অংশ সড়ক বিভাগের আওতায় আসে। বাকি ১৭ কিলোমিটার যেহেতু ছোট যমুনা নদীর বেড়িবাঁধের অংশ, সেটি যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে। দুই দপ্তরের মাঝে দায়িত্ব বিভাজন হওয়ায় সড়ক উন্নয়নে দেখা দেয় সমন্বয়হীনতা।
সড়কের পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও জনবসতি। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যা। ফলে বাঁকগুলো হয়ে উঠেছে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের কাছে এই সড়ক পরিচিতি পেয়েছে ‘মরণফাঁদ’ নামে। স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুর রউফ রিপন বলেন, তিনটি উপজেলার লাখো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়ক। কিন্তু দুই দপ্তরের মালিকানায় জটিলতা থাকায় প্রশস্তকরণ সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ।
নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল হক রাসেল বলেন, “এই সড়কে প্রায় ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। গত এক বছরে অন্তত ৫০টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য কাজ চলছে।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল জানান, ‘রক্তদহ-লোহচূড়া বিল নিষ্কাশন স্কিম’ প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩৫ কিমি বাঁধটিই এখন সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ভূমি অধিগ্রহণ না থাকায় এখনো প্রশস্ত করা সম্ভব হয়নি। এরইমধ্যে ২৮ কিমি বাঁধ পুনরাকৃতিকরণের জন্য একটি ডিপিপি পাঠানো হয়েছে।
সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, “এই সড়কজুড়ে চলছে সংস্কারকাজ। তবে দীর্ঘ ইতিহাস ও ঘনবসতির কারণে প্রশস্তকরণ ছাড়া কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই দ্রুত প্রকল্প গ্রহণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।” রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “সড়কটি এতটাই সরু যে বড় আকারের কোনো গাড়ি চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সড়কটি আধুনিকায়ন প্রয়োজন

