কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবস্থিত দেশের প্রথম সাফারি পার্ক—ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ছয়টি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজ শুরু না করেই পুরো বিলের চেক ইস্যু, অতিরিক্ত কাজের অনুমোদন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় মহল ও সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে ‘সাফারি পার্কের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়, দ্বিতীয় সংশোধন)’ প্রকল্পের আওতায় ১১টি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রামস্থ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াসিন নেওয়াজ দরপত্র আহ্বান করেন।
তবে শুরু থেকেই টেন্ডার জালিয়াতি ও দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম আলী এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রাজীব ট্রেডার্স পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রমাণিত অনিয়মের ভিত্তিতে প্রথম দফা দরপত্র বাতিল করা হয়।
২১ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু একই অভিযোগে ১৪ মে ফের মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেন মেসার্স এম আলী এন্টারপ্রাইজ। তা উপেক্ষা করে ১ জুন প্রকল্প পরিচালক ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেন।
এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার কাজ দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে বন্যপ্রাণী ঘের, ফুড স্টোরেজ, গার্ভেজ ডিসপোজাল সাইট, প্রবেশ গেট ও রাস্তা, টেরাকোটা ওয়াল এবং মাংসাশী প্রাণীর ঘর নির্মাণ।
অবাক করার বিষয় হলো, এসব কাজ ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হলেও ২০ জুন পর্যন্ত কোনো কাজ শুরুই হয়নি। অথচ এরই মধ্যে অতিরিক্ত কাজের জন্য ‘ভেরিয়েশন কার্যাদেশ’ও ইস্যু করা হয়।
২৬ জুন সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে তিনটির কিছু বেস প্রস্তুত করা হয়েছে, একটিতে শুধু মাটি পরিষ্কার এবং একটি শেড নির্মাণের কাজ চলছে। বাকি দুটি প্রকল্পে কোনো কাজ শুরুই হয়নি।
এছাড়া, ১০ শতাংশ কম দরে কার্যাদেশ দিয়ে ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরকারি সাশ্রয় দেখালেও অতিরিক্ত কাজের অনুমোদনের মাধ্যমে সেই অর্থ ব্যয়ের পাঁয়তারা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে প্রকল্প পরিচালক আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াসিন নেওয়াজের সরকারি ও ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পাঠানো মেসেজেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।
অন্যদিকে পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, “দুটি প্রকল্পের কাজ এখনও শুরু হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা দ্রুত কাজ শুরু করবেন।”
বন্য প্রাণী হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হাতেম সাজ্জাদ জুলকার নাইন বলেন, “বর্তমানে বৃষ্টির কারণে উন্নয়ন কাজে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।” তবে তিনি কাজ শুরু না করেই বিল ইস্যু ও অতিরিক্ত অনুমোদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

