কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত সরকারি জমির বদলে প্রভাব খাটিয়ে ফসলি জমিতে স্থানান্তর করায় বাড়ছে ব্যয়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, এতে অতিরিক্ত ব্যয় হবে অন্তত ৫০ কোটি টাকা। স্থানীয়দের দাবি, আগের প্রস্তাবিত জায়গায়ই উপজেলা ভবন নির্মাণ করা হোক।
জানা গেছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) ঈদগাঁও কলেজের পাশে মহাসড়কসংলগ্ন একফসলি সরকারি জমি উপজেলা ভবনের জন্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সাবেক সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের প্রভাবে তার নিজ এলাকা ইসলামাবাদ ইউনিয়নের তিন ফসলি জমিতে ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই জমিতে আগে থেকে কোনো নাগরিক সুবিধা না থাকায় জনদুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর হেলালুদ্দীন নিকারের সিদ্ধান্ত গোপন রেখে তার পৈতৃক বাড়ির পাশে তিন ফসলি জমিতে উপজেলা ভবন স্থাপনের উদ্যোগ নেন। জায়গাটি মহাসড়ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে এবং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেললাইনের পাশেই। অন্যদিকে, নিকারের প্রস্তাবিত জমি ছিল ঈদগাঁও বাসস্টেশনের পূর্ব পাশে, যেখানে নাগরিক সুবিধাসহ সরকারি-বেসরকারি অফিস, বিদ্যুৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার রয়েছে। সেখানে উপজেলা কার্যালয় নির্মাণ হলে অতিরিক্ত অবকাঠামো খরচও কম হতো।
ঈদগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক এহেসান বাবুল জানান, ২০২১ সালে নতুন উপজেলা গঠনের সময় নিকারের সভায় কলেজের পাশের জমি চূড়ান্ত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কাছাকাছি বিদ্যুৎ, রাস্তা, স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, হাসপাতালসহ নাগরিক সুবিধা থাকতে হয়। প্রথম জায়গায় এসব সুবিধা থাকায় ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে জমির প্রতিবেদনও চাওয়া হয়।

কিন্তু মাসখানেক পর হেলালুদ্দীন তার দুই প্রতিবেশীর মাধ্যমে ইসলামাবাদে ভবন করার সুপারিশ করে একটি আবেদন পাঠান মন্ত্রণালয়ে। আবেদনে তাকে ‘গৌরবময় সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসনিক ভবন তার এলাকার ধানিজমিতে করার অনুরোধ জানানো হয়। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ জেলা প্রশাসককে ইসলামাবাদে জমি নির্ধারণ করতে চিঠি দেয়। মূল ফাইল ও পুরনো চিঠি সরিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
প্রকৌশলী জুনাইদ জুয়েল বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কৃষিজমি ব্যবহার না করার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও, ইসলামাবাদের জমি তিন ফসলি এবং ঈদগাঁও রাবার ড্যামের আওতাধীন। সেখানে ভবন হলে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির সেচ সুবিধা নষ্ট হবে। সরু সড়ককে প্রশস্ত করতে হবে। ক্ষতিপূরণসহ ব্যয় দাঁড়াবে অর্ধশত কোটি টাকা। অন্যদিকে, ঈদগাঁও কলেজের পাশের জমি খাসজমি হওয়ায় অধিগ্রহণ ব্যয় কম, নতুন রাস্তা করতে হবে না। তাই প্রকৌশলীদের মতে, জনকল্যাণের দিক দিয়ে এ স্থানই সবচেয়ে উপযুক্ত।
ঈদগাঁও নাগরিক ফোরামের সহ-সভাপতি সেলিম রেজা জানান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ২০২২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঈদগাঁও ইউনিয়নের জমি মহাসড়কের পাশে এবং চারপাশে স্কুল, কলেজ, থানা, হাসপাতাল, স্টেডিয়ামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদের জমিতে উপজেলা ভবন গড়তে সরকার ইতিমধ্যে আদেশ জারি করেছে। অধিগ্রহণের জন্য ৮ ধারার নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করে নিকারের নির্ধারিত জমিতে ভবন নির্মাণ করলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা পাবে। রেললাইনের পাশে ভবন করলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
