Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, জুন 21, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বাংলাদেশীদের কিডনি প্রতারণা করে বিক্রি হচ্ছে ভারতে
    অপরাধ

    বাংলাদেশীদের কিডনি প্রতারণা করে বিক্রি হচ্ছে ভারতে

    হাসিব উজ জামানজুলাই 7, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বিকেলের মৃদু রোদে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বৈগুনি গ্রামে নিজের অসমাপ্ত ইটের তৈরি ঘরের সামনে বসে পেটের ডান পাশের ব্যথা আর পোড়া পোড়া অনুভূতি নীরবে সব সহ্য করছিলেন ৪৫ বছর বয়সী সফিরুদ্দিন।

    ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে তিনি ভারতের এক হাসপাতালে নিজের কিডনি বিক্রি করেন ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। স্বপ্ন ছিল, দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবেন, তিন সন্তানের জন্য ভালো একটি ঘর তৈরি করবেন। কিন্তু সেই টাকা বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে। ঘর এখনো অসমাপ্ত, আর শরীরের ব্যথা প্রতিদিন তাকে মনে করিয়ে দেয়, তিনি কী ভয়ংকর মূল্য দিয়েছেন।

    সফিরুদ্দিন এখন কষ্ট নিয়ে কাজ করেন স্থানীয় একটি কোল্ড স্টোরেজে। শরীরের অবস্থাও ভালো না। সারাক্ষণ ব্যথা আর ক্লান্তিতে ভোগেন, ফলে সাধারণ কাজও ঠিকভাবে করতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার যে ভালো থাকতে পারে সে জন্যই আমার কিডনি দিয়েছিলাম। স্ত্রী আর সন্তানদের জন্যই সব করেছি।’

    যখন কিডনি বিক্রি করেন, তখন এটা তেমন ভয়ংকর সিদ্ধান্ত মনে হয়নি তাঁর। তাঁর কাছে আসা দালালেরা সবকিছু সহজ আর ঝুঁকিমুক্ত বলেই বুঝিয়েছে। তাঁরা বলেছে, এটা একটা সুযোগ, বিপদের কিছু নয়। শুরুতে সন্দেহ ছিল সফিরুদ্দিনের, কিন্তু দারিদ্র্য আর অসহায়ত্ব শেষ পর্যন্ত তাঁর সন্দেহকে হার মানিয়েছে।

    দালালেরা তাঁকে মেডিকেল ভিসা দিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। ফ্লাইট, কাগজপত্র, হাসপাতালের সব আনুষ্ঠানিকতা—সবকিছু তারাই ঠিকঠাক করে দেয়। ভারতে পৌঁছানোর পর কিডনি গ্রহীতার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক প্রমাণ করার জন্য তাঁর জাল পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়। নকল কাগজপত্র বানানো হয়, এমনকি তার পরিচয়ও বদলে ফেলা হয়।

    সফিরুদ্দিন বলেন, ‘আমি জানিই না, আমার কিডনি কে পেয়েছে। দালালেরা আমাকে কিছুই বলেনি।’ ভারতীয় আইনে কেবল নিকটাত্মীয়দের মধ্যেই অঙ্গদান বৈধ, অথবা সরকারের বিশেষ অনুমোদন লাগে। কিন্তু পাচারকারীরা নকল কাগজ, ভুয়া পরিচয়পত্র, এমনকি ডিএনএ রিপোর্ট পর্যন্ত তৈরি করে আইনকে ফাঁকি দেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন বিষয়ক টাস্কফোর্সের সদস্য মনির মনিরুজ্জামান বললেন, ‘সাধারণত বিক্রেতার নাম পাল্টে দেওয়া হয়। ভুয়া নোটারি সার্টিফিকেট দেখিয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক বানানো হয়। নকল জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে দেখানো হয়, যেন দাতা সত্যিই ভাই-বোন বা পরিবারের কেউ।’

    সফিরুদ্দিনের ঘটনা মোটেও ব্যতিক্রম নয়। তাঁর গ্রাম বৈগুনিতে এত বেশি মানুষ কিডনি বিক্রি করেছে যে পুরো গ্রামটাই এখন ‘এক কিডনির গ্রাম’ নামে পরিচিত। কিডনি বিক্রির হটস্পট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে কালাই উপজেলা। ২০২৩ সালে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল গ্লোবাল হেলথে’ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, ওই অঞ্চলের প্রতি ৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন কিডনি বিক্রি করেছেন।

    কালাই উপজেলা বাংলাদেশের অন্যতম দরিদ্র এলাকা। অধিকাংশ কিডনি বিক্রেতা ৩০-এর কোটায় থাকা পুরুষ। ৮৩ শতাংশ লোকই বলেছে, দারিদ্র্য তাদের কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য করেছে। কেউ কেউ ঋণ শোধ, মাদকাসক্তি বা জুয়া আসক্তির কারণেও এই পথে গেছেন।

    সফিরুদ্দিন বলেন, দালালেরা তাঁর পাসপোর্ট রেখে দেয়, কখনো ফেরত দেয়নি। এমনকি অপারেশনের পর যে ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, সেটাও পাননি তিনি। তিনি বলেন, ‘ওরা আমার সবকিছু নিয়ে নিয়েছে।’ দালালেরা সাধারণত বিক্রেতার পাসপোর্ট, মেডিকেল রিপোর্ট রেখে দেয়। ফলে ট্রান্সপ্ল্যান্টের কোনো প্রমাণ থাকে না, পরবর্তী চিকিৎসাও পাওয়া যায় না।

    এই কিডনিগুলো বিক্রি হয় বাংলাদেশ বা ভারতের ধনী রোগীদের কাছে, যারা দীর্ঘ অপেক্ষার ঝামেলা এড়িয়ে দ্রুত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পেতে চান। ভারতে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ চূড়ান্ত পর্যায়ের কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়, অথচ ২০২৩ সালে মাত্র ১৩ হাজার ৬০০টি কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে।

    বাংলাদেশি ১০-১৫ জন কিডনি বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। সবার গল্প প্রায় এক—দারিদ্র্য তাদের এই পথে নিয়ে গেছে। সরল সমীকরণ—দারিদ্র্য, দীর্ঘ অপেক্ষা, আইনি দুর্বলতা আর ধনীদের চাহিদা এই ব্যবসাকে থামতে দেয় না।

    কালাই উপজেলারই বিনাই গ্রামের ৪৫ বছরের বিধবা জোসনা বেগমও একই পথে গেছেন। ২০১২ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই মেয়েকে (১৮ ও ২০ বছর বয়সী) নিয়ে জীবনের সংগ্রামে নেমেছিলেন। ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় বেলালের সঙ্গে, পরে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর ২০১৯ সালে এক দালালের প্রলোভনে পড়ে ভারত গিয়ে দু’জনেই কিডনি বিক্রি করেন।

    জোসনা বলেন, ‘এটা ভুল ছিল। শুরুতে দালাল ৫ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল, পরে তা বাড়িয়ে ৭ লাখ বলেছিল। কিন্তু অপারেশনের পর আমি মাত্র ৩ লাখ টাকা পেয়েছি।’ জোসনা ও বেলালকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্স হাসপাতালে। তিনি বলেন, ‘আমরা বাসে করে বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাই, সেখানে হাসপাতালের কাছেই ভাড়া বাসায় রাখে আমাদের।’

    এই নারী আরও জানান, ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য তাদের নকল কাগজপত্র বানানো হয়, যাতে দেখানো হয় তারা ও গ্রহীতা আত্মীয়। তিনিও জানেন না, তার কিডনি কে পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘পাসপোর্টসহ সব আইডি দালালের কাছেই ছিল। আমি ওষুধের প্রেসক্রিপশন দিতে রাজি ছিলাম না, পাসপোর্টও চেয়েছিলাম। দেয়নি।’

    অপারেশনের পর প্রায় দুই মাস ভারতে ছিলেন। পরে দালালেরা তাঁকে ফেরত পাঠায়, তখনো পুরো টাকার আশ্বাস দিয়েছিল। আসার সময় নগদ কিছু টাকা আর ঈদের সময় সামান্য সাহায্যের পর তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

    অপারেশনের কিছুদিন পর বেলালও জোসনাকে ছেড়ে দিয়ে আরেকটি বিয়ে করে। জোসনা বলেন, ‘আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি এখন তীব্র চিনচিনে ব্যথায় ভুগছেন, ওষুধ কিনতেও কষ্ট হয়। তিনি বলেন, ‘ভারী কাজ করতে পারি না। বাঁচতে হবে, কিন্তু সব সময় ওষুধ লাগে।’

    আরও ভয়ংকর দিক হলো, অনেকে নিজেরাই পরে দালাল হয়ে যান। ঢাকার সাবেক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সজল ইভ্যালির মাধ্যমে গৃহস্থালির জিনিসপত্র বিক্রি করতেন। ২০২১ সালে ইভ্যালি প্রতারণার পর তার সব অর্থ শেষ হয়ে যায়। ধার-দেনার চাপে পড়ে ২০২২ সালে তিনি নিজের কিডনি বিক্রি করেন ভারতের দিল্লির ভেঙ্কটেশ্বর হাসপাতালে। কিন্তু ১০ লাখ টাকার কথা থাকলেও তিনি পান মাত্র ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    সজল বলেন, ‘ওরা আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’ পরে বাধ্য হয়ে তিনিও দালালের সঙ্গে যুক্ত হন, আরও অনেক বাংলাদেশিকে ভারতের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে কিডনি বিক্রির ব্যবস্থা করেন। পরে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দালালদের সঙ্গে মনোমালিন্য হলে ভয় পেয়ে সে কাজ ছেড়ে দেন।

    তিনি বলেন, ‘এখন আমি ওদের বন্দুকের নিশানায় আছি।’ তাঁর ভাষায়, দুই দেশের হাসপাতাল থেকে শুরু করে চিকিৎসক, দালাল সবাই মিলে পুরো চক্রটি চালায়। এখন তিনি ঢাকায় রাইড শেয়ার করে দিন কাটান। তাঁর মতে, ‘কেউ শখ করে কিডনি বিক্রি করে না। এটা নিরেট দারিদ্র্যের হিসাব।’

    বাংলাদেশ পুলিশ বলছে, তারা পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) ইনামুল হক সাগর জানান, সাদা পোশাকে গোয়েন্দারাও এই চক্রের তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নজরদারিতে রেখেছি, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ ইতিমধ্যে অনেক দালাল গ্রেপ্তার হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ভারতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দিল্লি পুলিশ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডা. বিজয়া রাজাকুমারিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে অন্তত ১৫টি বাংলাদেশি রোগীর ট্রান্সপ্লান্ট করেছেন।

    কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিচ্ছিন্ন গ্রেপ্তার পুরো ব্যবসা বন্ধের জন্য যথেষ্ট নয়। ভারতের ১৯৯৪ সালের ট্রান্সপ্লান্টেশন অব হিউম্যান অর্গ্যানস অ্যাক্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র নিকটাত্মীয়ের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন বৈধ। আত্মীয় নয় এমন ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দালালেরা ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে এ আইনকে ফাঁকি দেয়।

    মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই কাগজপত্র বানাতে বেশি সময় বা খরচ লাগে না। জাল জাতীয় পরিচয়পত্র, নোটারি সার্টিফিকেট খুব সহজেই পাওয়া যায়। এরপর সেগুলো দেখিয়ে প্রতিস্থাপন বৈধ বলে চালানো হয়।’

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার) শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কেউ এসব জালিয়াতিতে জড়িত নয়। দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো সমন্বয়ও হয়নি।

    ভারতের দিল্লি পুলিশের উপকমিশনার অমিত গোয়েল বলেন, ‘অনেক সময় হাসপাতালের অনুমোদন বোর্ড ভুয়া কাগজ শনাক্ত করতে পারে না। ফলে অনুমতি দিয়ে দেয়।’ মনিরুজ্জামান বলেন, অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে হাসপাতালগুলো অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবেই চোখ বন্ধ রাখে। কারণ বেশি ট্রান্সপ্ল্যান্ট মানেই বেশি আয়।’

    বাংলাদেশের এক দালাল মিজানুর রহমান আল-জাজিরাকে জানান, চক্রের লোকজন ভারতে থাকা ডাক্তার বা হাসপাতালের কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করে। ঘুষ দিয়ে সব সহজ করে নেয় তারা।

    ভারতের জাতীয় অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন সংস্থার (নটো) পরিচালক ডা. অনিল কুমার এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এক সাবেক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময় ধনী রোগীরাও আদালতে গিয়ে চাপ দেয়। ফলে হাসপাতালও আইনি ঝামেলা এড়াতে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে ফেলে।

    অঙ্গ পাচার চক্রও নিজেদের কৌশল পাল্টায়। কোথাও পুলিশি তৎপরতা বাড়লে তারা হাসপাতাল পরিবর্তন করে ফেলে। এ বিষয়ে মনিরুজ্জামন বলেন, ‘এক জায়গায় নেই, চক্রের লোকজন দুই দেশেই সমন্বয় করে নতুন হাসপাতাল খুঁজে নেয়।’

    এই ব্যবসায় বিপুল অর্থ ঘোরাফেরা করে। প্রতিটি কিডনির দাম ২২ থেকে ২৬ হাজার ডলার। কিন্তু বিক্রেতারা পায় তার অল্পই—সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা দালাল, ভুয়া কাগজ প্রস্তুতকারী, চিকিৎসক ও অন্যান্য খাতে যায়।

    আরও ভয়াবহ, অনেকে চাকরির লোভে ভারতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন। কাজের নাম করে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক কিডনি নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে এভাবে দিল্লিতে ১০ জন বাংলাদেশিকে কিডনি বিক্রির ফাঁদে ফেলা হয়। পরে ঢাকায় তিন পাচারকারী ধরা পড়ে।

    ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শরীফুল হাসান বলেন, ‘অনেকে নিজের ইচ্ছায় দারিদ্র্যের চাপে কিডনি বিক্রি করেন। কিন্তু অনেককে চাকরির নাম করে ফাঁদে ফেলা হয়।’ ভারতের কিডনি ওয়ারিয়রস ফাউন্ডেশনের সিইও বসুন্ধরা রঘুবন বলেন, বৈধ দাতার ঘাটতি এই চক্রকে আরও বাড়াচ্ছে।
    তাঁর মতে, ‘নিয়ম অনুযায়ী অঙ্গদানে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ বাস্তবে অবৈধ চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।’

    তিনি মনে করেন, এই ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন, বরং নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কিডনি দাতাদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অপারেশনের পর নির্দিষ্ট সময় চিকিৎসা সেবা এবং আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

    আর বৈগুনি গ্রামের সফিরুদ্দিন? এখনো অসমাপ্ত ঘরের সামনে বসে শুধু কষ্টের কথা ভাবেন। রাতে ঘুম আসে না। দালালের দেওয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের কথা মনে পড়ে। নিজের কিডনি বিক্রি করে পরিবারকে সুরক্ষিত করতে চেয়েছিলেন তিনি। বাস্তবে তার সন্তানরা পেয়েছে অসুস্থ এক বাবা, আর তিনি পেয়েছেন শুধু প্রতারণা। তিনি বলেন, ‘ওরা আমার কিডনি নিয়ে উধাও হয়ে গেছে।’

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অপরাধ

    তেল কারসাজিতে ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ টিকে গ্রুপের

    জুন 21, 2026
    অপরাধ

    পাবনার অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ

    জুন 20, 2026
    অপরাধ

    মনোরেল প্রকল্পে রহস্যময় ধোঁকাবাজি

    জুন 20, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.