সন্ধ্যা নামলেই সিরাজগঞ্জ শহরে সিএনজি চালকদের নৈরাজ্য শুরু হয়। নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত আদায় করছেন চালকরা। বাধ্য হয়েই যাত্রীরা এই বাড়তি ভাড়া গুনছেন। অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা সিএনজি মালিক সমিতির কোনো কার্যকর নজরদারি নেই।
সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বাজার স্টেশন, কাঠেরপুল, চোরাস্ত, কড্ডার মোড়, নলকা—প্রায় সব সিএনজি স্ট্যান্ডে রাত হলেই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়। দিনের বেলা যমুনা সেতু পশ্চিম (কড্ডার মোড়) থেকে শহর পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা হলেও সন্ধ্যার পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত।
কড্ডার মোড় থেকে বেলকুচি ও এনায়েতপুর সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা জানান, সন্ধ্যার পর চালকরা দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া দাবি করেন। কেউ আপত্তি জানালে তারা গাড়ি না চালিয়ে সোজাসাপ্টা বলেন, “ভাড়া বেশি, নিতে চাইলে উঠুন, না হলে হাঁটুন।” এনায়েতপুরগামী যাত্রী হাসিব আহমেদ বলেন, “সাধারণ সময়ে ভাড়া ৪০ টাকা। কিন্তু রাত হলেই সেটা বেড়ে যায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কিছু বললেই চালকেরা খারাপ ব্যবহার করেন। আমরা যেন বাধ্য হয়ে তাদের অন্যায় মেনে নিই।” দিনমজুর রাব্বি খান বলেন, “প্রতিদিন এত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। প্রশাসন যদি নজর দিতো, তাহলে এমন অবস্থায় পড়তাম না।”
জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ রেলগেট সিএনজি মালিক সমিতির আওতায় এসব যানবাহন চলে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি কাউকে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভায় তোলা হয়েছিল। কিন্তু সমিতির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। আমরা একা কিছু করতে পারছি না, বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”
সিরাজগঞ্জ বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক হাফিজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সমন্বয় সভায় তা আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

