ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বুধবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয়, জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকা শপিং ডটকমের কাছে পণ্য সরবরাহকারী ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের প্রায় ৪০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এ নিয়ে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ‘ধামাকা শপিং ডটকমের ভুক্তভোগী, প্রতারিত ব্যবসায়ী ও ভোক্তাগণ’ নামক সংগঠনের শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত লেনদেন স্বাভাবিক ছিল। এরপরও কয়েক মাস পণ্য সরবরাহ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি আর কোনো টাকা পরিশোধ করেনি। প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ী এবং তিন হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে তারা মোট ৪০০ কোটি টাকার পাওনা দাবি করেন। বিভিন্ন সময়ে শতাধিক চেক দেওয়া হলেও তা ডিজ অনার হওয়ায় টাকা পাওয়া হয়নি।
জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, “টাকা না পেয়ে অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। হাজার হাজার তরুণ-পুরুষ-নারী নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। আমরা প্রতারকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাই এবং সরকারের তৎপরতা কামনা করি।”
তিনি অভিযোগ করেন, ধামাকা শপিংয়ের চেয়ারম্যান মো. মুজতবা আলী দাবি করছেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত নন, অথচ তিনি বিভিন্ন জায়গায় চেয়ারম্যান পরিচয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন। এমনকি সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে প্রধান অতিথি করে আয়োজিত ই-কমার্স গোলটেবিল বৈঠকে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম ডি জসীম উদ্দিন চিশতীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
এক পাইকারি বিক্রেতা মেহেদী হাসান বলেন, “বেশ কয়েকবার চেক পেয়েছি, কিন্তু কোনো চেকই বেতন হয়নি। পাঁচ বছর ধরে কোনো টাকা পাইনি। এখন আমরা সম্পূর্ণ অসহায়।”
অন্য একজন গ্রাহক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি ধামাকা শপিং থেকে একটি বাইক অর্ডার দিয়েছিলাম। কিন্তু পাইনি। বিনিময়ে তারা একটা চেক দিয়েছিল যা কার্যকর হয়নি। অনেকবার ঘোরাঘুরি করেও টাকা ফেরত পাইনি। হঠাৎ করেই তাদের অফিস বন্ধ হয়ে যায়।”
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার এবং তাদের পাওনা টাকা ফেরতের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে পাওনা পরিশোধের দাবি তুলেছেন।

