সরকারি কোষাগারে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকার রাজস্ব ঢুকবার কথা ছিল, কিন্তু সেটি আর হলো না। কারণ সেই টাকার হিসাবই নেই! জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি কর অঞ্চল অফিস থেকে একাধিক কর ফাইল গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
গতকাল বুধবার (৯ জুলাই) ঢাকার কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯০ (কোম্পানি) অফিসে অভিযান চালায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এই টিম তদন্তে নামে একটি গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে—যার কেন্দ্রে রয়েছে ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযানে গিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, দুটি বড় অংকের কর মামলার মূল ফাইল—যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারণ হয়েছিল—তা হঠাৎ উধাও! কোনো রকম তথ্য বা নথি ছাড়া ওই করদাতাকে প্রায় পুরোপুরি কর মওকুফ করে দেওয়া হয়।
বিশেষ করে, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ করবর্ষে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে সরকার কর দাবি করে যথাক্রমে ৭২ কোটি ৯৬ লাখ এবং ৭৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা—মোট ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। কিন্তু অডিটে দেখানো হয়, সেই দাবির বিপরীতে আদায়যোগ্য কর দাঁড়িয়েছে “শূন্য” ও “মাত্র ১ হাজার ২৯৯ টাকা”!
এমন অস্বাভাবিক হেরফের দেখে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় দুদক টিমের কাছে। পরে তাদের ধারণা দৃঢ় হয়, এই ফাইল গায়েব হওয়া এবং কর মওকুফের পেছনে অসাধু কর্মকর্তাদের ভূমিকা রয়েছে।
অভিযান কেবল এনবিআরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দুদক দল আরও একটি অভিযানে বের হয় ঘুষ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্তে। অভিযানে তারা মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং ভূমি অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সংগ্রহ করে। এসব নথির মাধ্যমে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদের অনুসন্ধান চালানো হয়, যাতে বোঝা যায়—সরকারের এত বড় ক্ষতির পেছনে কারা জড়িত।
সব তথ্য ও নথি পর্যালোচনার পর দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে কমিশনের উচ্চপর্যায়ে জমা দেবে বলে জানানো হয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো—প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কেবল সরকারকে নয়, সাধারণ জনগণকেই শেষপর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করে। কর আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে অর্থনীতির ভিত্তি আরও দুর্বল হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

