কুড়িগ্রামের রৌমারীতে প্রায় ৯ বছর ধরে একটি সেতু পড়ে আছে সংযোগ সড়ক ছাড়াই। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের ওই কংক্রিটের সেতুটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড়। সরু মাটির পথে পথচারীরা কোনোমতে চলাচল করেন। অথচ এই সেতুর পেছনে ব্যয় হয়েছে সরকারি কোষাগারের ৩২ লাখ টাকারও বেশি।
সেতুটির অবস্থান রৌমারী উপজেলার সদর ও যাদুরচর ইউনিয়নের মাঝামাঝি, কর্তিমারী বাজার থেকে দুবলাবাড়ী বাজার সংযোগকারী পুরোনো যাদুরচর এলাকায়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ময়নাল মেম্বারের বাড়ির পাশে ভেঙে যাওয়া সড়কে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে খরচ হয় ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা।

কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। কিন্তু এরপর আর হয়নি সংযোগ সড়ক নির্মাণ। ফলে ওই পথে চলাচল করা সাত গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ অবস্থায় সেতুটি কার্যত অকেজো হয়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় সরকারের এই বিশাল বিনিয়োগ কোনো কাজে আসছে না।
সরেজমিন দেখা যায়, মূল সড়ক থেকে সেতুটি ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতায়। পাশে সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। দুই পাশে জঙ্গল, তার মাঝখান দিয়ে হেঁটে পার হওয়ার মতো সরু পথ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলী, কৃষক ফারুক ও আতিকুল ইসলাম জানান, দুবলাবাড়ী থেকে কর্তিমারী বাজারে যাওয়ার এটাই একমাত্র সড়ক। সেতুতে যানবাহন চলতে না পারায় প্রতিদিন হেঁটে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হয়। তাঁরা দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও পুরো সড়কটি পাকা করার দাবি জানান।
রৌমারী উপজেলা পিআইও সামসুদ্দিন বলেন, ‘এ প্রকল্পটি আমার সময়ের না। তবে সেতুটি যদি ত্রুটিপূর্ণ হয়, আমরা তা যান চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করব।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার বলেন, ‘সংযোগ সড়ক নেই, বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক নয়। বর্ষায় মাটি সরে গেছে। বিষয়টি নজরে এসেছে, দ্রুতই আমরা তা ঠিক করব।’

