বাংলাদেশ ব্যাংকের আলোচিত রিজার্ভ চুরির মামলায় সাবেক গভর্নরসহ মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তৈরি করা এই খসড়া এখন আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, এটি এখনো আনুষ্ঠানিক চার্জশিট নয়। আদালতে দাখিলের আগে আইনগত পর্যালোচনার জন্যই এটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে পরবর্তী ধাপে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার (১০১ মিলিয়ন ডলার) চুরি হয়। সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থায় ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ঘটনার ৪০ দিন পর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত পরিচালনা করছে সিআইডি।
সিআইডি জানিয়েছে, খসড়া চার্জশিটে দেশের ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ১০ জন। এছাড়া ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বাংলাদেশি অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা রয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাটি প্রায় এক দশক ধরে চলমান এবং এর তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে আদালতে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিলের আগে আইনগত মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি চূড়ান্ত অভিযোগপত্র নয়; আইনি পর্যালোচনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে দাখিল করা হবে। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম এগোবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এই মামলার অগ্রগতি ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

