মাসে সর্বোচ্চ বেতন ৬৫ হাজার টাকা অথচ এই সীমিত আয়ের মধ্যেই একজন সাবেক ওসি নিজের, স্ত্রীর ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নামে বানিয়ে ফেলেছেন ৫ কোটিরও বেশি টাকার সম্পদের সাম্রাজ্য—এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের পরিদর্শক একরাম আলী মিয়ার বিরুদ্ধে।
এই অভিযোগে তার ও পরিবারের সদস্যদের স্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে।
এক সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ থানা ধানমন্ডিতে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন একরাম। এর আগে ছিলেন হাজারীবাগ থানার ওসি (২০১৮ সালে)। আর ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ছিলেন ধানমন্ডির দায়িত্বে। বর্তমানে তিনি সিআইডির পরিদর্শক পদে কর্মরত আছেন ফরিদপুরে।
সরকারের নবম বেতন স্কেল অনুযায়ী, একজন পুলিশ পরিদর্শকের মাসিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। অন্যান্য ভাতা মিলে মাসিক আয় হয় ৬০-৬৫ হাজার টাকার মধ্যে, যা বছরে মোট আয় হয় প্রায় ৮ লাখ টাকা।
কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, একরাম আলী মিয়ার পরিবারের নামে থাকা স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
কে কোথায় কী আছে?
দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, একরামের নিজ নামে রয়েছে:
-
ধানমন্ডিতে একটি ফ্ল্যাট
-
বাড্ডায় তিন কাঠা জমি
-
গোপালগঞ্জে সাড়ে সাত শতক জমি
তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা মুক্তার নামে রয়েছে:
-
ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাট
-
খিলক্ষেতে একটি ছয়তলা বাড়ি, যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা
এ ছাড়া:
-
শাশুড়ির নামে ধানমন্ডিতে একটি ফ্ল্যাট
-
কেরানীগঞ্জে আত্মীয়ের নামে আরেকটি ফ্ল্যাট
দুদক বলছে, এই সম্পদগুলো প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, এই সম্পদের বেশির ভাগই অবৈধভাবে অর্জিত এবং একরাম বা তার স্ত্রী তা হস্তান্তর বা পাচারের চেষ্টা করছেন—এমন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা থেকেই আদালত এই সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে একরাম আলী মিয়া সব অনিয়ম অস্বীকার করে বলেন,
“আমার সম্পদের সবকিছুই আয়কর নথিতে ঘোষণা দেওয়া। স্ত্রীর সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।”
তিনি আরও জানান, মামলার অন্য দুই অভিযুক্ত তানিয়া আক্তার ও ইমদাদুল হক তার আত্মীয় কিনা, তা তার মনে নেই।
“আমরা কিছু জমি বিক্রি করেছিলাম, তারা হয়তো সেই ক্রেতা। আত্মীয় নন বলেই মনে হয়।”
দুদকের সহকারী পরিচালক আলিউস হোসেন জানিয়েছেন,
“তদন্ত এখনো চলমান। সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।”

