গল্পটা শুরু হয়েছিল এক আশার আলো দেখিয়ে—বেকারত্ব দূর হবে, স্বল্প সময়ে মিলবে মোটা অঙ্কের আয়। কিন্তু বাস্তবটা ছিল নির্মম প্রতারণা। ‘মিস্ট্রাল এআই’ নামের এক অনলাইন কোম্পানির ফাঁদে পড়ে পাবনার ঈশ্বরদীর অন্তত ১৮৮৭ জন মানুষ এখন নিঃস্ব। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারক চক্রটি প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন লাপাত্তা।
চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই চক্র নিজেদের পরিচয় দিয়েছিল বিশ্ববিখ্যাত বিল গেটসের প্রধান সমন্বয়কারী এবং গুগলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে। তারা প্রচার চালায়—মাত্র ৪০ দিনে বিনিয়োগের কয়েকগুণ ফেরত দেওয়া হবে, সঙ্গে প্রতিদিন থাকবে আকর্ষণীয় বোনাস। এই লোভনীয় স্বপ্নে বিশ্বাস করে অনেকেই জমা দেন জীবনের শেষ সম্বল।
গত জুন মাসে প্রতারকরা সব টাকা সংগ্রহ করে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। এখন তারা কেউ ফোন ধরছেন না, আবার কেউ বলছেন, “আমিও তো প্রতারিত, আমায় শুধু টাকা তোলার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।”
শনিবার (১৯ জুলাই) প্রতারিত গ্রাহকরা ঈশ্বরদীর রেলগেট এলাকায় এক মানববন্ধনে অংশ নেন। তাদের চোখে মুখে হতাশা, ক্ষোভ আর অপমানের ছাপ। কেউ ধার করে টাকা দিয়েছিলেন, কেউ গয়না বিক্রি করে, কেউবা বিদেশ ফেরত সঞ্চয়।
ঈশ্বরদী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এবিএম মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতারকরা ঈশ্বরদী, নাটোরসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করে। সেখানে অনলাইনে আয়, বিনিয়োগ, ‘গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম’-এর গল্প শোনানো হয়। টাকা তোলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয় বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট।
প্রতারণার মূল হোতাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে: মাহফুজ, বারেক, বিপ্লব, ইয়াছিন, জাহিদ ও ফারুক। এদের অনেকেই স্থানীয়ভাবে পরিচিত, কেউবা রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচিতেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে—বড় বড় প্রতিশ্রুতি শুনলেই সতর্ক হতে হবে। সুখী জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে, বড় কোম্পানির নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করার পদ্ধতি নতুন নয়, কিন্তু প্রতিবারই নতুন নতুন মানুষ ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
প্রতারণার এই কাহিনি শুধু একটি আর্থিক ঘটনার নয়, এটি হাজারো মানুষের স্বপ্নভঙ্গের গল্প। যারা সঞ্চয় তুলে দিয়েছিলেন একটি ভালো জীবনের আশায়—তাদের জীবনে এখন শুধুই হতাশা আর প্রশ্ন।
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই মানুষেরা একটাই দাবি জানাচ্ছেন—প্রতারকদের গ্রেপ্তার করুন, এবং যে অর্থ তারা নিয়েছে, তা যেন অন্তত কিছুটা হলেও ফেরত পাওয়া যায়।

