রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে একটি মুরগির খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। গ্রামীণ বসতবাড়ির পাশে গড়ে ওঠা ‘নাবা মুরগি ফার্ম’ নামের খামারটি নাবিল গ্রুপের মালিকানাধীন। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা উৎপন্ন হয় খামারটিতে। এর কিছু অংশ জৈব সারে রূপান্তর হলেও, বাকি অংশ ফেলা হয় পাশের খাল, বিল ও পুকুরে—পরিশোধন ছাড়াই।
বর্জ্য যাচ্ছে বিভিন্ন খালে
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে ড্রাম ট্রাকে করে এই বিষ্ঠা ফেলা হয় রাজশাহী, তানোর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর, নাচোল, শিবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার খালে।
কাঁকনহাটের খাড়ি, তানোরের বুরুজ, লব্যাতলা, ধামধুম, মাড়িয়া জোকারপাড়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাজাহাটি, বারেক বাজার, দানিয়ালগাছির গ্যারোলি বিল, কাতলা কানদোর বিল ও ঝিলিম এলাকাও রয়েছে তালিকায়।
এই বর্জ্য পানিতে পড়ার ফলে শুরু হয়েছে মারাত্মক জলদূষণ। মাছ মরছে, হাঁস-মুরগি মারা যাচ্ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে। খাল-পুকুরের পানি এখন আর রান্না বা সেচে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
গ্রামের বাসিন্দারা জানালাও খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধে।
অভিযোগ, হুমকি ও প্রশাসনিক অভিযান
স্থানীয়রা বারবার ইউএনও, জেলা প্রশাসক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছে। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালায়।
গত শুক্রবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের নাইম আলীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া নাবা ফার্মকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
নাইমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিয়মিতভাবে বিষ্ঠা পরিবহনের কাজে যুক্ত ছিলেন। ট্রাকে বিষ্ঠা বহন করে রাতের আঁধারে তা খাল-বিলে ফেলে চলে যেতেন। এই কাজে বাধা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কর্তৃপক্ষ কী বলছে
নাবিল গ্রুপের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দৌজা বলেন, “আমি একবার ওই ফার্মে গিয়েছিলাম। ফার্মের কারও সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই। তাই কিছু বলতে পারছি না।”
অভিযানে অংশ নেওয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কবির হোসেন বলেন, “মুরগির বিষ্ঠা থেকে ছড়ানো জীবাণু মানুষ ও পশুপাখির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এটি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে।”
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল ইসলাম জানান, পাকড়ি ও রিশিকুল ইউনিয়নে তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “বর্জ্য পরিশোধনের প্ল্যান্ট থাকলেও তা অকার্যকর। নিয়ম অনুযায়ী জৈব সার তৈরি না করে সরাসরি ফেলা হচ্ছিল নদী-নালায়। এজন্যই জরিমানা ও সাজা দেওয়া হয়েছে।”
এই দূষণের দায় যেমন খামারের, তেমনি প্রশাসনিক দুর্বলতাও স্পষ্ট। শুধু জরিমানা বা সাময়িক শাস্তি যথেষ্ট নয়। নিয়মিত নজরদারি এবং পরিবেশগত আইন প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হবে।

