চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইনে আম বিক্রি। জেলার বাইরের অনেক ক্রেতা হাটে এসে আম কেনার ঝামেলা এড়াতে ভরসা করছেন অনলাইন ব্যবসায়ীদের ওপর। তবে এই সুযোগে মাঠপর্যায়ের সাশ্রয়ী দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
বর্তমানে মাঠে প্রতি কেজি আম ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও অনলাইনে সে দাম থাকে অনেক বেশি। এতে আমচাষি ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ হলেও অনলাইন বিক্রেতারা লাভের মুখ দেখছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট, যেটি দেশের সবচেয়ে বড় আম বাজার, সেখানে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকে আম পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এসব আম পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে প্লাস্টিকের ক্যারেট। গত কয়েক বছর ধরেই অনলাইন বিক্রির কারণে বেড়েছে ক্যারেটের চাহিদা। তবে এতে তৈরি হয়েছে নতুন এক সংকট—ক্যারেট সিন্ডিকেট।
এক বছরে একটি ক্যারেটের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। এতে বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়কেই। অথচ পরিবেশবান্ধব বাঁশের ঝুড়ি সহজলভ্য না হওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ক্যারেট ব্যবহার করছেন।
বাজারে তিন ধরনের মানের ক্যারেট পাওয়া যায়, কিন্তু নির্ধারিত কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। মানহীন ক্যারেট ব্যবহারে আম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
ভোক্তাদের দাবি, সিন্ডিকেট ভাঙা ও ক্যারেটের মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এছাড়া বাঁশের ঝুড়ি সহজলভ্য হলে আমের দাম কিছুটা কমবে এবং কর্মসংস্থানও তৈরি হবে স্থানীয়দের জন্য।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, দ্রুত অভিযান চালিয়ে সিন্ডিকেট ভাঙা হবে।
তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় উৎপাদিত আমের প্রায় ৩০ শতাংশ বিক্রি হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। সারা দেশে সক্রিয় অনলাইন আম বিক্রেতার সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। জেলার বিভিন্ন বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ট্রাক আম পরিবহন করা হয়, যার মধ্যে ৯৯.৫ শতাংশ আমই ক্যারেট ব্যবহার করে পাঠানো হয়।

