নীলফামারীর কথিত সাংবাদিক স্বপ্না আক্তার স্বর্ণালি শাহের বিরুদ্ধে আবারও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডিমলা উপজেলার শালহাটি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিলীপ কুমার রায়ের কাছ থেকে ভুয়া নিয়োগপত্রের আশ্বাসে তিন ধাপে ২৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্বপ্না নিজেকে ‘নীলফামারী রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। ভুক্তভোগী দিলীপ রায়ের ভাষ্য, ২০২১ সালে স্থানীয় এক মাদরাসা শিক্ষক মাহফুজার রহমান মিলনের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় হয় স্বপ্নার। পরিচয়ের পর স্বপ্না দাবি করেন, তার ঊর্ধ্বতন মহলে প্রভাব রয়েছে এবং যেকোনো সরকারি দপ্তরে চাকরি দিতে পারেন। সেই আশ্বাসেই দিলীপ তার দুই মেয়ের চাকরির জন্য দেন ২৮ লাখ টাকা।
স্কুল শিক্ষক দিলীপ জানান, তিনি প্রথমে সন্দেহ করলেও নানা প্ররোচনায় পড়ে শেষ পর্যন্ত চাকরির আশায় নিজের পৈত্রিক জমি বিক্রি করে স্বপ্নার হাতে টাকা তুলে দেন। এ নিয়ে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিও হয়। চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় দিলীপ রায় স্বপ্নাকে দেন পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় দফায় ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেওয়া হয় আরও আট লাখ ৫০ হাজার টাকা। তৃতীয় ও শেষ দফায় স্বপ্নার হাতে তোলা হয় ১৪ লাখ টাকা। সব লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে স্ট্যাম্পে, যেখানে স্বপ্নার স্বাক্ষর ও সাক্ষীও ছিল।

চাকরির প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দিলীপের ছোট মেয়ে দোলনাকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরে অফিস সহায়ক এবং বড় মেয়ে দ্রুপতিকে রংপুর জেলা দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন শাখায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দেন স্বপ্না। কিন্তু পরে তিনি দুটি ভুয়া নিয়োগপত্রের ফটোকপি দিয়ে দায় শেষ করেন। পরে দিলীপ যখন বিষয়টি বুঝতে পারেন, তখন স্বপ্না বিষয়টি ‘দেখছি’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন এবং শেষমেশ টাকা নেওয়ার কথাও অস্বীকার করেন।
এ ঘটনায় প্রতারিত হয়ে দিলীপ কুমার রায় ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর নীলফামারী কোর্টে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আব্দুর রোবায়েত জানান, স্বপ্নার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। তিনি বলেন, “স্বপ্না তিন দফায় ২৮ লাখ টাকা নিয়েছেন, প্রতিটি লেনদেন নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হয়েছে। এমনকি চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্রও দিয়েছেন তিনি।”
![]()
এসআই রোবায়েত আরও বলেন, “ভুয়া নিয়োগপত্র বুঝতে পারার পরই শিক্ষক প্রতারণার বিষয়টি ধরতে পারেন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।” অভিযোগ রয়েছে, শুধু ২৮ লাখ টাকায় থেমে থাকেননি স্বপ্না। পরে মূল নিয়োগপত্র দেওয়ার নাম করে দিলীপের কাছ থেকে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। তবে তা সত্ত্বেও দিলীপের মেয়েরা কোনো চাকরি পাননি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার স্বপ্নার মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমি জানি না। লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণাদি পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, এর আগেও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপসাংবাদিকতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই নীলফামারীর লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বাসিন্দারা তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ৮ জুলাই স্বপ্না ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে অন্তত তিনজনের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন। এরপর থেকেই একে একে বের হয়ে আসছে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ।

