দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। গত ৩১ জুলাই তিনি ডোমিনিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। এর আগে দুদক দুই দফা বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কিন্তু তিনি তা ফাঁকি দিয়ে কৌশলে দেশ ছাড়তে সক্ষম হন।
ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ কয়েকটি দুর্নীতি মামলা বিচারাধীন। দুদকের আবেদনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগরের বিশেষ জজ আদালত ওবায়দুল করিম ও পরিবারের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
পরে চিকিৎসা ও ওমরাহ হজের জন্য বিশেষ অনুমতির আবেদন আসে। শুনানি শেষে ১৬ মার্চ আদালত ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী আরজুদা করিমকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। ১৮ মার্চ শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২১ এপ্রিল পর্যন্ত এই অনুমতি স্থগিত করেন। একই সঙ্গে ১৬ মার্চের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।
জারিন করিমের বিদেশ যাত্রার বিষয়ে ১৬ মার্চ আদেশ না দিলেও ২১ এপ্রিল বিশেষ জজ আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতে বলা হয়, জারিন করিম ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্র ডোমিনিকান রিপাবলিকে বাংলাদেশি কনস্যুলেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রোটোকল নাঈম উদ্দিন আহমেদ থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিদেশ যেতে অনুমতি চান। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ২২ এপ্রিল তিনি দেশ ত্যাগ করেন।
চিকিৎসা ও ওমরাহর জন্য অনুমতি স্থগিত থাকলেও হাইকোর্টের রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জুলাইয়ে ফের বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করেন ওবায়দুল করিম। ৩০ জুলাই আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তিনি ডোমিনিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করে দ্রুত দেশ ছাড়েন। পরে দুদক এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পুনরায় আবেদন করে। ১০ আগস্ট হাইকোর্ট তিন মাসের জন্য বিশেষ জজ আদালতের ৩০ জুলাই দেওয়া অনুমতি স্থগিত করেন। একই সঙ্গে আদালতের ওই আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করা হয়।
হাইকোর্টের এই আদেশের ১০ দিন আগে, ৩১ জুলাই ওবায়দুল করিম বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার না করে ডোমিনিকান পাসপোর্টের মাধ্যমে দেশ ত্যাগ করেন। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘দুদক প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এ ক্ষেত্রেও আমরা যথাযথভাবে আইনি প্রক্রিয়া পালন করেছি।’

