মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। এর প্রভাবে জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া, ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নির্ভরতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ—সব মিলিয়ে সরকারের সামনে বড় ধরনের চারটি চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটগুলো বর্তমান সরকারের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তারা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে দ্রুত ও বাস্তবভিত্তিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। অন্যথায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
চাপ তৈরি হয়েছে সরকারের ওপর: ড. ম তামিম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই বৈশ্বিক অস্থিরতা ঘিরে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানিসংকট শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের আরও অনেক দেশ একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি। পরিবহন, শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে দোকানপাট ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন—সবখানেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় দুই মাসের জ্বালানি মজুত রয়েছে। তবে একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু চাপও তৈরি হয়েছে, যা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
জনগণকে স্বস্তিতে রাখতে সরকার এখনো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বরং প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম বাড়তে থাকায় এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এর প্রভাব দেশের ওপরও পড়ছে।
সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রেখেছে। এরই মধ্যে নতুন চালান দেশে এসেছে এবং কিছু জ্বালানি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব উদ্যোগ সাময়িকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলতে থাকলে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, অতীতের নীতি-দুর্বলতার কারণেই বর্তমান সময়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতার দিকে যথাযথ অগ্রগতি হয়নি। একই সঙ্গে কুইক রেন্টালের ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মত দিয়েছেন। জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা অপতথ্য যেন পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করে, সে জন্য নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে। অনেক উন্নত দেশে জরুরি পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মজুত রাখা হয়। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছানো কঠিন বলে নীতিনির্ধারকরা মনে করেন।
এদিকে, জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত রাখা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে এবং ভর্তুকির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে এক পর্যায়ে মূল্য সমন্বয় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অতীতে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় আমদানিনির্ভরতা বাড়ানোর কারণে বর্তমান সংকট আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিবর্তে আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকি তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে এক ধরনের আতঙ্কও দেখা যাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি কেনার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত চাপ মূলত ডিজেল সরবরাহ ঘিরেই বেশি, পেট্রল বা অকটেন নয়।
অন্যদিকে, অতীতে জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য নিয়ে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন। এর ফলে এখন সরকারি তথ্য নিয়ে সন্দেহ ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য মুনাফা করলেও সেই অর্থ ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার জন্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি—এমন সমালোচনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে জ্বালানিসংকট এখন পুরো অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। আসন্ন বাজেটে জ্বালানি খাতের জন্য পৃথক ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা জরুরি বলেও তারা মত দিয়েছেন।
রাজস্ব বাড়ানো চ্যালেঞ্জের: ড. মো. আবদুল মজিদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাতেও স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং এর আওতা সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে। তবে বৈশ্বিক এই অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চাপ মিলিয়ে লক্ষ্য পূরণ এখন বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
জ্বালানিসংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অনেক দোকান নতুন করে পণ্য সংগ্রহে সমস্যায় পড়ছে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও স্বাভাবিক গতি নেই। এর সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তা চাহিদা কমে গেছে। ফলে রাজস্ব আহরণের মূল তিনটি খাতেই আয় কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে রাজস্ব ঘাটতি ইতোমধ্যে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অথচ একই সময়ে উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, ঋণ পরিশোধ এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য সরকারের ব্যয়ের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার প্রধান কারণগুলোর একটি হলো বিনিয়োগে ধীরগতি। নতুন সরকার বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা চালালেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের চাপের কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হয়ে পড়ছে। বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান তৈরি হয়, যা আবার আয় ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে—এই চক্রটি এখন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
আসন্ন বাজেটকে কেন্দ্র করে সরকারের সামনে জটিল নীতিগত সমীকরণ তৈরি হয়েছে। করহার বাড়ালে রাজস্ব বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে করছাড় বা প্রণোদনা দিলে রাজস্ব আয় আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে করছাড়ের ফলে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি, বাজেট ঘাটতি এবং সরকারি ঋণের ওপর এর প্রভাব—সবকিছুই সতর্কভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের চাপও সরকারের ওপর রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রে রয়েছে নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত, যা বর্তমানে প্রায় ৭ শতাংশের ঘরে। এটি রাজস্ব ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় বাজেটের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ফলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়েছে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজস্ব ঘাটতি অব্যাহত থাকায় অর্থনৈতিক চাপ ক্রমশ জমে উঠেছে। উন্নয়ন ও সামাজিক ব্যয়ের চাহিদা বাড়লেও রাজস্ব আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এর ফলে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
আগামী বছরগুলোতে ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে ঋণ পরিশোধ, উন্নয়ন প্রকল্প এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয়—সব ক্ষেত্রেই সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক দায় তৈরি হচ্ছে। এই বাস্তবতায় রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
ঋণ কমাতে সক্ষমতা বাড়াতে হবে: মুস্তফা কে মুজেরী, সাবেক চেয়ারম্যান, এনবিআর
চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকঋণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে, যদিও অর্থবছর শেষ হতে এখনো দুই মাসের বেশি সময় বাকি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিট ১ লাখ ৬ হাজার ৫০ কোটি ৬১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। যেখানে পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সময় শেষ হওয়ার আগেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ গ্রহণ করতে হয়েছে সরকারকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব ঘাটতি বাড়তে থাকায় সরকারের ওপর ঋণের চাপও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বালানিসংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে পুরো অর্থনীতিতে ধীরগতি তৈরি করেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে, যার প্রভাব দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও পড়ছে।
বর্তমানে সরকার শুধু ব্যাংকিং খাত থেকেই নয়, বৈদেশিক উৎস থেকেও ঋণ গ্রহণ করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ব্যয় মেটানোর জন্য ঋণই এখন প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি বাড়ায় সরকারের আর্থিক চাপ আরও জটিল হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগে কিছুটা আগ্রহ তৈরি হলেও জ্বালানি সংকট, আমদানি-রপ্তানিতে অস্থিরতা এবং বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরছে না। এর ফলে রাজস্ব আদায়ও প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। আয় কমে যাওয়ায় ব্যয় মেটাতে সরকারকে বাধ্য হয়ে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে যেসব ব্যয় অপরিহার্য, সেগুলো চালিয়ে নিতে হলে আরও ঋণ গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সামগ্রিক ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে, যা অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে শুধু অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে ব্যয় করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ব্যয়ের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মত তাদের।
রাজস্ব আদায় বাড়াতে সরকারকে আরও কার্যকর ও কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় ঋণনির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রায় আট মাস দায়িত্বে ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সময়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর থাকায় ঋণের বড় অংশই পরিচালন ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হয়েছে। এতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অগ্রগতি না হলেও ঋণের চাপ বেড়েছে।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রধান উৎস হিসেবে এখন ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। একসময় সঞ্চয়পত্র ছিল বড় ভরসা, তবে মুনাফার হার কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমেছে। ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ সংগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ঋণের বিকল্প কিছু নেই: ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ

