মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার চাপ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বসন্তকালীন বৈঠকের প্রান্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থসহায়তার ইতিবাচক সংকেত মিলেছে।
সরকারি প্রতিনিধিদল একাধিক বৈঠকে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছে। এসব আলোচনায় বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে জরুরি সহায়তা প্যাকেজের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সার আমদানিতে অতিরিক্ত প্রায় ২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। একই সময়ে এসব খাতে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। এই বাড়তি চাপ মোকাবিলায় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দিক থেকেও সহায়তার প্রস্তুতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় আকারের সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে, আর বিশ্বব্যাংক আগামী এক বছরের বেশি সময় ধরে বিশাল অর্থ সহায়তার পরিকল্পনা নিয়েছে। বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে নিয়মিত ঋণের কিস্তি ছাড়ের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত পূরণ করা জরুরি। রাজস্ব আয় বাড়ানো, বিনিময় হার আরও বাস্তবসম্মত করা এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মতো সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছে দাতা সংস্থাগুলো। এ বিষয়ে এখনও কিছু আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এর পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে নিয়মিত বাজেট সহায়তা হিসেবেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন উৎস থেকে মিলিয়ে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা আসতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে হলে কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বিকল্প জ্বালানি উৎসে বিনিয়োগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ছাড়া ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকেই যাবে।

