বিশ্বজুড়ে দেশগুলো কীভাবে ভ্যাট অব্যাহতি পরিচালনা করে, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। কারণ, সরকার বেশিরভাগ ভ্যাট অব্যাহতি তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে, তবে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কিছু সুবিধা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কী বলছে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের নানা দেশের অভিজ্ঞতা দেখায়, ভ্যাট এখন বহুল ব্যবহৃত করব্যবস্থা হলেও অব্যাহতি ও কম হারের প্রচলন এখনও রয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো আয়ের বৈষম্য কমানো এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ হালকা রাখা।
ভ্যাটকে অনেক সময় পশ্চাৎমুখী কর হিসেবে দেখা হয়, কারণ এটি সবার জন্য একই হারে প্রযোজ্য। তবুও বিশ্বে ১৭০টির বেশি দেশে পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়। ইউরোপের প্রায় সব বড় অর্থনীতিতেই এই কর চালু রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভ্যাটের হার সাধারণত ১৫ থেকে ২৭ শতাংশের মধ্যে, যেখানে বাংলাদেশে মানক হার ১৫ শতাংশ। ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট উৎপাদন ও আমদানি করের মধ্যে ভ্যাটের অংশ ছিল ৫৫ শতাংশ।
তবে কর আহরণের মাত্রা দেশভেদে ভিন্ন। একই বছরে জিডিপির অনুপাতে কর ও সামাজিক অবদানের হার সবচেয়ে বেশি ছিল ফ্রান্সে ৪৮ শতাংশ, বেলজিয়ামে ৪৫.৬ শতাংশ এবং অস্ট্রিয়ায় ৪৩.৬ শতাংশ। বৈষম্য কমাতে অনেক দেশ প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট কমিয়ে দেয় বা পুরোপুরি অব্যাহতি দেয়। এর মধ্যে সাধারণত খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গণপরিবহন অন্তর্ভুক্ত থাকে। কারণ, নিম্নআয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের বড় অংশ এসব খাতে ব্যয় করে। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাতকে উৎসাহ দিতে কম ভ্যাট হার ব্যবহার করা হয়। যেমন বইয়ের ব্যবহার বাড়ানো, পর্যটন খাতকে সহায়তা দেওয়া বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া।
আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাপ কমাতে খাদ্য, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে এই নীতির একটি সীমাবদ্ধতাও আছে। কারণ, ধনী শ্রেণিও একই পণ্য ও সেবা ব্যবহার করে, ফলে তারাও এই সুবিধা পেয়ে যায়।
২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ থেকে শুরু করে উচ্চ আয়ের দেশগুলোও ভ্যাটে অব্যাহতি ও কম হার বজায় রাখে। এর পেছনে মূল কারণ হলো আয় বণ্টনের ভারসাম্য রক্ষা এবং নিম্নআয়ের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া।

