সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি দেশের চলমান সব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সার্বিক মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগত দিকনির্দেশনা দেবে।
গতকাল রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ১৪ সদস্যের এই কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন অর্থমন্ত্রী। কমিটিতে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যাতে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটি প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠকে বসবে। এছাড়া প্রতিবছর মার্চ মাসে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে তালিকাভুক্ত ১৮টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অগ্রগতি ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচির ভিত্তিতে পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট নির্ধারণে সুপারিশ করা হবে।
মূল্যায়নের আওতায় থাকা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি। এছাড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যক্তিদের সহায়তা কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি মা ও শিশু সহায়তা, ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট, অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ভিজিএফ কার্যক্রমও পর্যালোচনায় থাকবে। কৃষক কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী, রপ্তানিমুখী শিল্পের দুস্থ শ্রমিকদের সুরক্ষা, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও কমিটির বিবেচনায় আসবে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা রয়েছেন।
সরকারের এই উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর জবাবদিহি ও কার্যকারিতা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের কাছে সেবা পৌঁছানো আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।

