উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহায়তা আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করতে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে হাঁটছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানো, জ্বালানি খাতে নীতিগত পরিবর্তন, ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজভিত্তিক শিল্প উন্নয়নে নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫-এ ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম, আর্থিক অগ্রগতি এবং নতুন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সংস্কারের ফলে উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলো আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও মানসম্মত অর্থায়ন সুবিধা পাবে।
এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে সংস্থাটি আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি সহায়তা দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহায়তার মাধ্যমে প্রায় ৩৩ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১৮ কোটির বেশি মানুষের উপকার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ও বড় পরিসরে সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা এডিবি অর্জন করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার ও বেসরকারি খাতে ঋণ, অনুদান, গ্যারান্টি, ইক্যুইটি বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহায়তাসহ মোট অর্থায়নের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে। এর সঙ্গে অংশীদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তাও যুক্ত হয়েছে।
২০২৫ সালে বেসরকারি খাত উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এডিবি। মোট প্রতিশ্রুত অর্থের মধ্যে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে এই খাতে। একই সঙ্গে সরকারি খাতের প্রায় অর্ধেক অর্থ অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিগত সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়।
অঞ্চলভিত্তিক বরাদ্দেও বড় অঙ্কের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য ৯ বিলিয়ন ডলার এবং মধ্য ও পশ্চিম এশিয়ার জন্য ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পূর্ব এশিয়ায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৬৮০ মিলিয়ন ডলার এবং আঞ্চলিক প্রকল্পের জন্য ৩০২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থায়নের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, পরিবহন এবং সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা।
এডিবির অনুমোদিত নতুন সংস্কারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঋণসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা। এর ফলে অতিরিক্ত মূলধন ছাড়াই ব্যাংকটির অর্থায়ন সক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে।
এ ছাড়া জ্বালানি নীতিমালায় পরিবর্তন এনে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রয় প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বাড়তি চাহিদা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদভিত্তিক শিল্প উন্নয়নেও নতুন কৌশল নিয়েছে এডিবি। খনিজ উত্তোলন থেকে উৎপাদন পর্যন্ত পুরো মূল্যশৃঙ্খলকে টেকসই ও দায়িত্বশীলভাবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

