নারীপ্রধান পরিবারকে মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে চালু হতে যাওয়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে আগামী পাঁচ বছরে সরকারের ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নেওয়া এ কর্মসূচিতে প্রতিটি যোগ্য পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবে।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ধাপে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে ধাপে ধাপে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে উপকারভোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বাজেট বরাদ্দও প্রতিবছর বৃদ্ধি পাবে। ২০২৯–৩০ অর্থবছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরসহ প্রথম পাঁচ বছরে নগদ সহায়তা ও প্রশাসনিক ব্যয় মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বড় অংশ সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে, বাকি অংশ ব্যয় হবে তথ্য সংগ্রহ, ডিজিটাল সিস্টেম, কার্ড প্রস্তুত ও প্রশাসনিক কাজে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে কয়েক কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। মাঠ পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর বাস্তবায়নে বহু ধাপের কাজ বাকি আছে। তবে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বড় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর অর্থায়ন টেকসই করতে হলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং অপচয় কমানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, উপকারভোগী নির্বাচন সঠিক না হলে প্রকল্পের লক্ষ্য পূরণ নাও হতে পারে। তাই স্বচ্ছতা ও তথ্য যাচাই প্রক্রিয়াকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সব মিলিয়ে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা খাতে একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে সঠিক বাস্তবায়ন, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর তদারকির ওপর।

