Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, এপ্রিল 29, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » দেশের বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ চিত্র কেমন হবে
    অর্থনীতি

    দেশের বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ চিত্র কেমন হবে

    নিউজ ডেস্কএপ্রিল 29, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ছবি: এ আই
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    করোনা মহামারি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে এক গভীর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ভ্যাকসিন, ওষুধ এবং ডায়াগনস্টিকসের মতো মৌলিক স্বাস্থ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে, তা এই সংকটকালেই স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

    সেই সময় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ বহু দেশ টের পায় বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের নাজুকতা। উন্নত দেশগুলো নিজেদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহও সীমিত করে দেয়। ফলে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় আসে।

    এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে দাঁড়িয়ে আছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া চলমান। একই সঙ্গে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ট্রিপস-সংশ্লিষ্ট মেধাস্বত্ব ছাড় সুবিধাও শেষ হয়ে যাবে। এই দুই পরিবর্তন একসঙ্গে দেশের ওষুধ ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

    এ অবস্থায় মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশ কি শুধু বিদ্যমান দুর্বলতা কিছুটা সামাল দেবে, নাকি এই সংকটকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী জাতীয় বায়োসিকিউরিটি কাঠামো এবং প্রতিযোগিতামূলক লাইফ সায়েন্সেস শিল্প গড়ে তুলবে?

    এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন ভ্যাকসিন, থেরাপিউটিকস ও ডায়াগনস্টিক (ভিটিডি) প্রকল্প। প্রায় ৩০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো নির্বাচিত বায়োলজিক্যাল পণ্য, ডায়াগনস্টিকস এবং ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য আধুনিক একটি উৎপাদন সুবিধা গড়ে তোলা।

    এই প্রকল্পের একটি অংশ হিসেবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও প্রায় ৫ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দক্ষতা ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়। এছাড়া সরকারি পর্যায়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির তেজগাঁওয়ের পুরোনো অবকাঠামো সরিয়ে নতুন জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।

    তবে মানিকগঞ্জে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং প্রকল্পগুলোর অবস্থান ঢাকার কাছাকাছি রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ভিটিডি প্রকল্প এবং জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন প্রকল্প—দুটিই মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সব মিলিয়ে এই দুই বড় প্রকল্পে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সরকারি বিনিয়োগ যুক্ত হচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    এটি কেবল আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন করা গেলে এই বিনিয়োগ দেশের ফার্মাসিউটিক্যালস ও বায়োসিকিউরিটি খাতের কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। সিরাজদিখানকে শুধুমাত্র একটি স্থানান্তরযোগ্য ফাঁকা জমি হিসেবে বিবেচনা করাও হবে সীমিত দৃষ্টিভঙ্গি। বাস্তবে এটি একটি জাতীয় বায়োসিকিউরিটি ও লাইফ সায়েন্সেস উদ্ভাবনী করিডোর গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে সিরাজদিখান একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে অবস্থিত। একদিকে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা রাজধানীকেন্দ্রিক গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক হাব। অন্যদিকে সাভার অঞ্চলে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রিক ইকোসিস্টেম, প্রাণিসম্পদ গবেষণা কেন্দ্র, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি, অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং একাধিক দেশীয় ওষুধ কোম্পানিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য ক্লাস্টার।

    পরিকল্পিত মেট্রো সংযোগ এবং এন-৫ ও এন-৮ করিডরের সঙ্গে উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা যুক্ত করা গেলে সিরাজদিখান এই দুই বড় জ্ঞান ও শিল্প ক্লাস্টারের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধনের ভূমিকা নিতে পারে। নীতিনির্ধারকদের জন্য এখানে মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রকল্পকে বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত জ্ঞান ও উৎপাদনভিত্তিক ইকোসিস্টেম হিসেবে বিবেচনা করা। এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা গেলে গবেষক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ল্যাবরেটরি, উৎপাদন লাইন, হাসপাতাল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।

    এই ধরনের সমন্বিত প্ল্যাটফর্মই একটি দেশকে আমদানিনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা থেকে সরিয়ে প্রকৃত উদ্ভাবনভিত্তিক সক্ষমতার দিকে এগিয়ে নিতে পারে। সিরাজদিখানকেন্দ্রিক এই করিডোরে শুধু উৎপাদন কারখানা নয়, বরং যৌথ গবেষণাগার, স্টার্টআপ ইনকিউবেশন সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয়-সংযুক্ত টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস এবং বিজ্ঞানী ও বায়োইঞ্জিনিয়ার তৈরির জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগও রয়েছে।

    এখনকার সময়টি বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ট্রিপস-সংশ্লিষ্ট মেধাস্বত্ব ছাড় সুবিধা শেষ হয়ে যাবে। তখন এই খাতকে আরও কঠোর ও প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক আইপি ব্যবস্থার মধ্যে কাজ করতে হবে। বর্তমানে দেশের ওষুধ শিল্প নিজস্ব চাহিদার বড় অংশ পূরণ করছে এবং বহু দেশে জেনেরিক ওষুধ রফতানি করে সুনাম অর্জন করেছে। তবে এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন বৈশ্বিক মেধাস্বত্ব কাঠামোর অনেক শর্তেই তুলনামূলক ছাড় কার্যকর ছিল।

    এখনই প্রয়োজনীয় সংস্কার না আনলে এই অর্জন ভবিষ্যতে চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরকে আধুনিক দক্ষ জনবল, সমৃদ্ধ আইপি জ্ঞান এবং শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো দিয়ে পুনর্গঠন করা জরুরি হয়ে উঠেছে। এটি কোনো বিলাসী সংস্কার নয়, বরং একটি জাতীয় প্রয়োজন।

    একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও পরিবর্তনের তাগিদ রয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন নীতিগত ও প্রণোদনামূলক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে, যাতে তারা আইপি ব্যবস্থাপনা, শিল্প–গবেষণা অংশীদারত্ব এবং স্পিন-অফ কোম্পানি গঠনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।  সরকারি অর্থায়নে গঠিত ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানার অবস্থান, উৎপাদন কাঠামো ও লক্ষ্য নির্ধারণ যেন শুধু স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন সুবিধা বা জমির প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর না করে। বরং দীর্ঘমেয়াদি উদ্ভাবন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং রফতানি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

    ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণায় মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যকে একক কাঠামোর মধ্যে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই সমন্বিত কাঠামো এখনও পূর্ণভাবে গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) কার্যক্রম সীমাবদ্ধ মূলত মানবস্বাস্থ্যের জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে। উন্নত ভ্যাকসিন বা জটিল বায়োলজিক উৎপাদনের সক্ষমতা এখনও সীমিত।

    অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ খাতে কিছু প্রাথমিক ভ্যাকসিন উৎপাদন হলেও তা মূলত মহাখালীর প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পুরনো ও সীমিত অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত অ্যানিমেল হাউজ স্থাপনের প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই কেন্দ্র মানব ও প্রাণী উভয় খাতে ভ্যাকসিন, থেরাপিউটিকস ও ডায়াগনস্টিকস উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কথা।

    তবে এই অবকাঠামো কোথায় এবং কীভাবে গড়ে উঠবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নীতিনির্ধারকদের মতে, যদি এই অ্যানিমেল হাউজ পৃথক প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হয় এবং ইডিসিএলের ভিটিডি প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় না থাকে, তবে সম্পদের অপচয় ও গবেষণাগত ফাঁক তৈরি হতে পারে।

    অন্যদিকে, যদি এটিকে জাতীয় বায়োসিকিউরিটি কাঠামোর অংশ হিসেবে একীভূতভাবে পরিকল্পনা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ একটি সমন্বিত ‘ওয়ান হেলথ’ ভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে এগোতে পারবে। সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে দেশটি ওষুধ উদ্ভাবন, বায়োমেডিকেল গবেষণা এবং উন্নত রোগনির্ণয় ও নিরাপত্তা পরীক্ষণের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। এই প্রকল্পগুলোকে এখন আর আলাদা উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলোকে একত্রে সমন্বয় করা জরুরি। একই সঙ্গে দেশের সরকারি খাতে বড় প্রকল্প কীভাবে নকশা ও বাস্তবায়ন হয়, সেই প্রক্রিয়াটিও নতুন করে ভাবতে হবে।

    বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলছে, ছোট ও মাঝারি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে তুলনামূলক অগ্রগতি থাকলেও লাইফ সায়েন্সভিত্তিক বড় ও জটিল প্রকল্পে ভিন্ন ধরনের শাসন কাঠামো ও নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়। বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান জ্যেষ্ঠ আমলা বা চিকিৎসকরা, যারা তাদের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি এসব বহুমাত্রিক প্রকল্প পরিচালনা করেন। কিন্তু বড় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় যে ধরনের পেশাদার দক্ষতা, প্রযুক্তিগত গভীরতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা প্রয়োজন, তা অনেক সময় পর্যাপ্তভাবে থাকে না। ফলে প্রকল্পে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং কারিগরি সিদ্ধান্তে ভুলের ঝুঁকি তৈরি হয়।

    এই পরিস্থিতিতে একটি নতুন নেতৃত্ব মডেলের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এমন একটি কাঠামো, যেখানে নীতিগত দিকনির্দেশনা, প্রশাসনিক ক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা এবং বাস্তবায়ন শৃঙ্খলা একসঙ্গে কাজ করবে। পূর্ববর্তী কিছু জটিল প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে একটি ‘ত্রয়ী’ কাঠামোর ধারণা কার্যকর হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

    এই কাঠামোতে— একজন জ্যেষ্ঠ আমলা থাকবেন, যিনি জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে প্রকল্পের সামঞ্জস্য ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় নিশ্চিত করবেন। একজন দক্ষ টেকনোক্র্যাট থাকবেন, যিনি বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড বজায় রাখবেন। এবং একজন বেসরকারি খাত বা করপোরেট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাদার থাকবেন, যিনি সময়, ব্যয় ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবেন। এই সমন্বিত নেতৃত্ব কাঠামো প্রকল্প ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে।

    এই বিষয়টি শুধু কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশ্ন নয়। বাংলাদেশ এখন এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, শিল্পনীতি এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির লক্ষ্য একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। আগামী কয়েক বছরে নেওয়া সিদ্ধান্ত—কোন স্থানে কোন অবকাঠামো গড়ে উঠবে, কোন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কতটা বিস্তৃত হবে, মেধাস্বত্ব ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে এবং প্রকল্প নেতৃত্বের কাঠামো কেমন হবে—এসবই নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি। এগুলোই ঠিক করবে, ভবিষ্যৎ কোনো মহামারিতে বাংলাদেশ কতটা সক্ষমভাবে সাড়া দিতে পারবে এবং বৈশ্বিক ভ্যাকসিন ও ওষুধ মূল্যশৃঙ্খলে দেশের অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে।

    যদি সিরাজদিখানকে একটি ইনোভেশন করিডোরের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায় এবং এর সঙ্গে আধুনিক মেধাস্বত্ব ব্যবস্থাপনা, ‘ওয়ান হেলথ’ভিত্তিক গবেষণা সক্ষমতা এবং পেশাদার নেতৃত্ব কাঠামো একীভূত করা যায়, তবে একটি সুসংহত জাতীয় বায়োসিকিউরিটি ও লাইফ সায়েন্সেস কৌশল গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু নিজের স্বাস্থ্য নিরাপত্তাই শক্তিশালী করবে না, বরং আঞ্চলিক লাইফ সায়েন্সেস খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের অবস্থান অর্জন করতে পারবে।

    সিভি/এম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    ইরানের তেল নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি মার্কিন লুণ্ঠনের ইতিহাসকে অব্যাহত রেখেছে

    এপ্রিল 29, 2026
    অর্থনীতি

    ৯০ শতাংশ রাশিয়ান ঋণে রূপপুর প্রকল্প—২৮ বছরে শোধ করবে বাংলাদেশ

    এপ্রিল 29, 2026
    অর্থনীতি

    মে মাসে জ্বালানি তেলে স্বস্তির ইঙ্গিত

    এপ্রিল 29, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.