অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা রাজস্ব খাত সংস্কারসংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ আর কার্যকর থাকছে না। বর্তমান বিএনপি সরকার সেগুলো জাতীয় সংসদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন না করায় অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি বাতিল না করে নতুনভাবে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ৯ সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
কমিটিতে আরও আছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, অর্থসচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক সচিব। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারি সূত্র জানায়, ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং এর সংশোধনী অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর রূপ দেওয়ার সুপারিশ করবে এই কমিটি। পরে সেগুলো নতুন বিল আকারে সংসদে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ১২ মে রাজস্ব খাতে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করেছিল। ওই অধ্যাদেশের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রমকে দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর মধ্যে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ করনীতি প্রণয়ন, আইন সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও গবেষণার দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। অন্যদিকে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ কর আদায় ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত।
তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশ দুটি সংসদে উপস্থাপন করেনি। ফলে সেগুলোর আইনি কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। এখন একই বিষয় নতুন কাঠামোয় বিল আকারে সংসদে আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার।

