নিত্যপণ্যের বাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কঠোর সরকারি নজরদারি নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি যেন কার্যকর না হতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সরবরাহ শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।
গতকাল সোমবার (১১ মে) ঢাকার আগারগাঁওয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের ভ্রাম্যমাণ ট্রাক বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে সাধারণ ভোক্তারা ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল কিনতে পারবেন। আগামী ১০ দিন এ কার্যক্রম চলবে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি চিনি এবং ২ কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন। প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের দাম ১৩০ টাকা, চিনি ৮০ টাকা এবং মসুর ডাল ৭০ টাকা কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে একজন ক্রেতার খরচ হবে ৪৮০ টাকা। সংস্থাটি জানায়, একই পণ্য খুচরা বাজার থেকে কিনতে প্রায় ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা লাগে। ফলে ভোক্তারা ২২০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন।
টিসিবি জানিয়েছে, সারা দেশে মোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর ও জেলায় ৫০টি ট্রাক, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় ২০টি ট্রাক থাকবে। অন্য ছয়টি বিভাগীয় শহর ও জেলায় ১৫টি করে ট্রাক এবং বাকি ৫৬টি জেলায় ১০টি করে ট্রাকের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ছাড়া স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের কাছেও নিয়মিতভাবে পণ্য বিক্রি চলবে। মে মাসে প্রায় ৭২ লাখ পরিবারকে মোট ৩৪ হাজার ৮৪৮ টন পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, রমজান মাসে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ উপকারভোগীর কাছে পণ্য পৌঁছানো হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ করা হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ঈদুল আজহায় প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হলেও এবার তা বাড়িয়ে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগের তালিকায় থাকা প্রায় ১ কোটি উপকারভোগীর মধ্যে ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবার যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, টিসিবির কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। পরিবেশক নিয়োগ ব্যবস্থাও আরও স্বচ্ছ করা হবে। বাজারে কারসাজি প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আমদানি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা হবে, যাতে তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে আরও উদ্যোক্তাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো একক গোষ্ঠীর প্রভাব না থাকে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।

