চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)–এর সিগারেট বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে কোম্পানিটির মুনাফাও।
কোম্পানির প্রকাশিত সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়কালে সিগারেট বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার ৭২৫ কোটি টাকার। গত বছরের একই সময়ে এই বিক্রি ছিল ৯ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি কমেছে ৮৭২ কোটি টাকা, যা প্রায় ৯ শতাংশের বেশি। এতে প্রায় হাজার কোটি টাকার বিক্রির ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বিক্রি কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মুনাফায়। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০১ কোটি টাকায়। গত বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৩১৮ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে ১০৮ কোটি টাকা, যা প্রায় ৩৪ শতাংশ।
গতকাল বুধবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। পরে আজ বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত রয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)–এ।
আর্থিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিক্রি কমার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৩২ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ১৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যয় বেড়েছে ৬৭ কোটি টাকা বা প্রায় ৪১ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে বিক্রির বিপরীতে বড় অংশই কর হিসেবে সরকারকে দিতে হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সিগারেট বিক্রির প্রায় ৮৪ শতাংশ অর্থ সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। এই খাতে কোম্পানিটি সরকারকে দিয়েছে ৭ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা।
এ ছাড়া করপোরেট করসহ অন্যান্য কর বাবদ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি দিয়েছে ২৮৫ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৩৪২ কোটি টাকা। ফলে এ খাতে ব্যয় কমেছে ৫৭ কোটি টাকা। করপোরেট কর সাধারণত মুনাফার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। তাই মুনাফা কমার সঙ্গে সঙ্গে এই খাতেও কর কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাজারে বিক্রি ও মুনাফা কমার খবরে শেয়ারবাজারেও প্রভাব পড়ে। আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমে প্রতিটি শেয়ার দাঁড়ায় ২১৪ টাকায়। এক দিনে দাম কমেছে ৩ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় দেড় শতাংশ। এদিন প্রায় ৩ কোটি টাকার সমমূল্যের ১ লাখ ৩৫ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়।
বাংলাদেশের বাজারে বিএটিবি বেনসন, গোল্ডলিফ, ক্যাপস্টেন, ডার্বি, স্টার, হলিউডসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট বিক্রি করে থাকে। কোম্পানিটি ১৯৭৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং এটি ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত মৌলভিত্তির কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। গত বছর কোম্পানিটি মোট ৪৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকার সিগারেট বিক্রি করেছিল এবং বছর শেষে মুনাফা হয়েছিল ৫৮৪ কোটি টাকা।

