কর ফাঁকি ঠেকাতে দেশের তামাক শিল্পকে আরও কঠোর নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
গতকাল শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা ভবনের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট সংলাপে তিনি এ তথ্য জানান। ‘রেভিনিউ মোবিলাইজেশন: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার।
সংলাপে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তামাক শিল্পে রাজস্ব ফাঁকি কমাতে উৎপাদন পর্যায়ে কাউন্টিং মেশিন, কাউন্টিং ক্যামেরা, কিউআর কোড এবং উন্নতমানের রাজস্ব স্টিকার ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, তামাক খাতকে আরও কঠোর ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা হবে। তিনি জানান, তামাক খাতে প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে অন্যান্য পণ্য খাতেও একই ধরনের পদ্ধতি চালুর চিন্তা রয়েছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের স্বস্তির বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে রাজস্ব বাড়াতে নতুন কিছু খাত বাজেটের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
করদাতাদের হয়রানি কমাতে রাজস্ব প্রশাসনকে পুরোপুরি ডিজিটাল বা ‘ফেসলেস’ ব্যবস্থায় রূপান্তরের ওপরও জোর দেন মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, করদাতারা যেন ঘরে বসেই করসংক্রান্ত সেবা নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী ১ জুলাই থেকে আয়কর ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হোসেন জিল্লুর রহমান।
আলোচনায় কর-জিডিপি অনুপাত কম থাকার কারণ, করনীতি সংস্কার, রাজস্ব আহরণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক, সামাজিক উন্নয়নে রাজস্ব নীতির প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

