চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি) লিমিটেড। জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় কমেছে ৮৭২ কোটি টাকা। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে নিট মুনাফাও।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৯ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা।
আয় কমার প্রভাব পড়েছে মুনাফায়। চলতি প্রান্তিকে কর পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২০৯ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই সময়ে মুনাফা কমেছে ১০৮ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, আলোচ্য প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৮৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এটি ছিল ৫ টাকা ৮৯ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৩ টাকা ৩৮ পয়সায়।
আগের বছরের লভ্যাংশ ও আর্থিক চিত্র:
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১০ টাকা ৮১ পয়সা। আগের বছরে যা ছিল ৩২ টাকা ৪২ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১০২ টাকা ৫০ পয়সা।
এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ১৫০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দেয়। পাশাপাশি আরও ১৫০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দেয়। ফলে মোট লভ্যাংশ দাঁড়ায় ৩০০ শতাংশ। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩২ টাকা ৪২ পয়সা এবং আগের বছরে ছিল ৩৩ টাকা ১১ পয়সা। ২০২৪ সালের শেষে নিট সম্পদমূল্য ছিল ১০৬ টাকা ৮৮ পয়সা।
২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ১০০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দেয়। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩৩ টাকা ১১ পয়সা এবং আগের বছরে ছিল ৩৩ টাকা ১০ পয়সা। ২০২৩ শেষে নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৯৯ টাকা ৩৩ পয়সা। ২০২২ হিসাব বছরে একইভাবে ১০০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। সে বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩৩ টাকা ১০ পয়সা, আগের বছরে ২৭ টাকা ৭২ পয়সা। ২০২২ শেষে নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৭৬ টাকা ২৭ পয়সা।
কোম্পানিটির সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি–১’ হিসেবে নির্ধারণ করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি। ১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন ৫৪০ কোটি টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৪ কোটি।
শেয়ার কাঠামো অনুযায়ী উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার। সরকারের হাতে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার।

