দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে করহার নির্ধারণে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বাভাসযোগ্য কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে সরকার। আসন্ন জাতীয় বাজেটে আগামী পাঁচ বছরের সম্ভাব্য করহারের রূপরেখা তুলে ধরা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত অর্থবছরের বাজেটে দুই বছরের জন্য করহার নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য কর কাঠামো নির্ধারিত রয়েছে। এবার নতুন বাজেটে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলতে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের করনীতি প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্যবসায়ী মহলের অন্যতম বড় দাবি ছিল একটি পূর্বানুমানযোগ্য করব্যবস্থা। অর্থাৎ অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর কোন খাতে কী ধরনের করহার কার্যকর থাকবে, সে বিষয়ে আগাম ধারণা পেতে চান বিনিয়োগকারীরা। তার ভাষ্য, এবার বাজেটের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের করহার সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
বাংলাদেশে কার্যরত দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল করনীতির দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বিদেশি বিনিয়োগকারী চেম্বার ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল কর কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে।
এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেসলে বাংলাদেশের আইন ও করপোরেট বিষয়ক পরিচালক দেবব্রত রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বহুদিন ধরেই এমন একটি করব্যবস্থার প্রত্যাশা করছেন, যেখানে নির্ধারিত করহার অন্তত পাঁচ বছর অপরিবর্তিত থাকবে। এতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণে অনিশ্চয়তা কমে আসে। তার মতে, যদি সরকার আগাম পাঁচ বছরের করহার স্পষ্টভাবে জানায়, তাহলে সেটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতি বছর জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে করনীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করে। কারণ অনেক সময় নতুন করব্যবস্থার প্রভাব আগের অর্থবছরের আয়-ব্যয় হিসাবেও পড়ে।
কর বিশেষজ্ঞ ও এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, করহারকে দীর্ঘমেয়াদে পূর্বানুমানযোগ্য করার উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু করহার স্থিতিশীল হলেই বিনিয়োগ বাড়বে না। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন করহার কমানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে যদি বাংলাদেশে তুলনামূলক বেশি করহার বজায় থাকে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

