দীর্ঘ ১৩ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করল দেশের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তবে নির্বাচন ঘিরে বিতর্কও ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটের আগের দিনই প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আর তাতেই সব কটি পদে জয় পায় ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’।
গতকাল শনিবার (২৩ মে) দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম। নির্বাচনের আগে থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল দুই প্যানেলের মধ্যে। ভোটের আগের দিন শুক্রবার দুপুরে ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটি সমমনা পরিষদ নামেও পরিচিত। যদিও ব্যালট পেপারে তাদের প্রার্থীদের নাম বহাল ছিল।
এবারের নির্বাচনে মোট ২৪টি পরিচালক পদের মধ্যে ১৮টি পদে ভোটগ্রহণ হয়। বাকি ছয়জন পরিচালক আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রাম চেম্বারে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ভোট ছাড়াই সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠিত হয়ে আসছিল।
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে ভোট দেন ২ হাজার ৭২৫ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ। সাধারণ শ্রেণিতে ৪ হাজার ১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়ে ১ হাজার ৮৪৩টি। এই শ্রেণিতে ভোটের হার প্রায় ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে সহযোগী শ্রেণিতে ২ হাজার ৭৬৪ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৮৮২ জন, যা প্রায় ৩২ শতাংশ।
চেম্বারের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে তিনজন করে মোট ছয়জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবেই গঠিত হয় ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত করা হবে।
নবনির্বাচিত পরিচালক এবং ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের দলনেতা মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের যে প্রত্যাশা ছিল, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হয়েছে।
সাধারণ শ্রেণি থেকে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন কামাল মোস্তফা চৌধুরী, এএসএম ইসমাইল খান, আবু হায়দার চৌধুরী, মো. আমজাদ হোসাইন চৌধুরী, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, আসাদ ইফতেখার, আমান উল্লাহ আল ছগির, মো. গোলাম সরওয়ার, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শফিউল আলম, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ আরও একজন প্রার্থী।
সহযোগী শ্রেণি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহিদুল হাসান, মো. নুরুল ইসলাম, মো. সেলিম নুর, সরওয়ার আলম খান, মোহাম্মদ মশিউল আলম এবং মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ। ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে মোহাম্মদ আখতার পারভেজ, মোহাম্মদ আমিরুল হক ও এস এম সাইফুল আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
এছাড়া টাউন অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণিতে আফসার হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন এবং মোহাম্মদ সজ্জাদ উন নবাজও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হন।

